ভয়েস এশিয়ান, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬।। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে তা ভাঙতে দুর্বার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতের আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের ওপর শোষণ বন্ধ না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে শ্রমবাজারের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন খাতের সিন্ডিকেটও বিলুপ্ত করার কথা বলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘সিন্ডিকেট ও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: বাংলাদেশের অংশীদারত্ব’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য একজন শ্রমিককে জমি বিক্রি, ঋণ নেওয়া কিংবা অন্যভাবে অর্থের সংস্থান করতে হয়। এরপর বিদেশে গিয়ে যদি ঋণ পরিশোধ করতেই তার জীবন শেষ হয়ে যায়, তাহলে তার অবস্থাটা কী হবে—এ প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।
তিনি বলেন, বিদেশে গিয়ে সাধারণ শ্রমিকদের অনেকের চেহারার দিকে তাকানো যায় না। প্রশ্ন করলে তারা জবাব দিতে চান না। তাদের বুকের ভেতর বোবা কান্না। তারা শান্তিতে শ্বাস নিতে পারেন না, রাতে ঘুমাতে পারেন না।
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে এজেন্সি নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ২৫টি এজেন্সিকে ‘মাস্টার এজেন্সি’ হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। তাদের অধীনে অ্যাসোসিয়েট এজেন্সি থাকবে। কিন্তু কী ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে এসব এজেন্সি নির্বাচন করা হয়েছে তা সরকারকে পরিষ্কার করতে হবে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে কিছু নির্বাচিত এজেন্সির পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকার খবর এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ায় যদি ১৫ থেকে ২২ কোটি টাকা বিনিয়োগের বিষয়টি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে তারা বিষয়টি অত্যন্ত ঘৃণার সঙ্গে দেখবেন। সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা না থাকলে এ ধরনের নির্বাচন কীভাবে হলো সরকারকেই তা স্পষ্ট করতে হবে।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে সরকারকে বিষয়টি যথাযথভাবে নেগোশিয়েট করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণকে শোষণের চেষ্টা করা হলে তা সংশ্লিষ্টদের জন্য দুঃসংবাদ হয়ে ফিরে যাবে।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, শ্রমবাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন খাতেও সিন্ডিকেট রয়েছে। জনগণের স্বার্থে এসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন কোনো আইন করা হলে তা জনগণের মুক্ত কণ্ঠ স্তব্ধ করার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা বলেন জামায়াতের আমির।
তিনি বলেন, জনগণের মুক্ত কণ্ঠ রোধের উদ্দেশ্যে আইন করা হলে তারা এর বিরোধিতা করবেন।