| ঢাকা, বাংলাদেশ | শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
1767864071.png 1647622201.jpg

বিভাগ : অর্থ-বাণিজ্য তারিখ : ১১-০৯-২০২৬

মুরগি ও ডিমের দামে হাঁসফাঁস, স্বস্তি নেই মাছের বাজারেও


  ভয়েস এশিয়ান ডেস্ক


ভয়েস এশিয়ান, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬।। রাজধানীর বাজারে গত ছয় মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে ডিম, মুরগি ও কয়েক ধরনের মাছের দাম বেড়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতারা। মৌসুম পরিবর্তনের কারণে কিছু সবজির দামও বেড়েছে। সব মিলিয়ে কিছু পণ্যের দাম কমলেও নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের বাজার খরচ কমেনি।
 
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল ও কাঁঠালবাগান বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
 
এক মাসের বেশি সময় ধরে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম ও মুরগি। এর আগে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা এবং ফার্মের ডিমের ডজন ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হতো। আগস্টের শুরুতে দাম বাড়ার পর আর কমেনি। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং এক ডজন ডিম ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
 
গত সপ্তাহের তুলনায় সোনালি মুরগির দামও কেজিতে প্রায় ৩০ টাকা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার এটি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। হাইব্রিড সোনালি বা কালারবার্ড মুরগির দাম তুলনামূলক কম, ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি।
 
বিক্রেতাদের ভাষ্য, গত কয়েক মাসে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও অতিরিক্ত গরমে অনেক খামারে মুরগি মারা গেছে। পরে অনেক খামারি নতুন করে মুরগি পালন শুরু করেননি। সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিংয়ের কারণেও কিছু খামারে উৎপাদন কমেছে। এতে বাজারে ডিম ও মুরগির সরবরাহে প্রভাব পড়েছে বলে তাঁদের দাবি।
 
মৌসুম বদলে বাড়ছে সবজির দাম
 
ছয় মাস আগে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেশি থাকায় অনেক সবজির দাম তুলনামূলক কম ছিল। এখন মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গে কিছু সবজির দাম বেড়েছে।
 
বর্তমানে লম্বা বেগুন ৭০ টাকা এবং গোল বেগুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মার্চের শুরুতে বেগুনের দাম ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা। অর্থাৎ ধরনভেদে দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা।
 
টমেটোর দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। এখন প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও মার্চে ছিল মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকা। আগাম শিমের দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি।
 
হাইব্রিড শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মার্চে হাইব্রিড শসার দাম ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। পটোল, ঢ্যাঁড়স ও কাঁকরোলের মতো সবজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে।
 
তবে কিছু সবজির দাম কমেছে। করলা এখন ৮০ টাকা কেজি, যা মার্চে ছিল প্রায় ১০০ টাকা। বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। পেঁপের দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে, প্রতি কেজি ৪০ টাকা।
 
কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০ টাকা। মার্চের শেষ দিকে এর দাম ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা।
 
শাকের মধ্যে লাল শাক ও কলমি শাক ২০ টাকা আঁটি, ডাঁটা শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ থেকে ৫০ টাকা, লাউ শাক ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং কচু শাক ২৫ থেকে ৩০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে।
 
বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মৌসুম পরিবর্তনের কারণে সবজির দামে এ ধরনের ওঠানামা স্বাভাবিক।
 
বাড়তি দামে মাছও
 
ডিম ও মুরগির পাশাপাশি গত ছয় মাসে কয়েক ধরনের মাছের দামও বেড়েছে। বর্তমানে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মার্চে এর দাম ছিল ২০০ থেকে ২৩০ টাকা। পাঙাশ এখন ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, যা মার্চে ছিল ১৮০ থেকে ২২০ টাকা।
 
রুই-কাতলার দাম আকারভেদে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি। মার্চে রুইয়ের দাম ছিল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। তবে মাঝারি আকারের রুই এখনো ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। বড় রুইয়ের দাম ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা।
 
চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে। আকার ও মানভেদে এ মাছের দামে বড় পার্থক্য রয়েছে। পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি, যা ছয় মাস আগেও প্রায় একই দামে ছিল। টেংরার দাম প্রায় ৭০০ টাকা কেজি।
 
বাড়ছে তেল-চিনির দামও
 
নিত্যপণ্যের তালিকায় সয়াবিন তেল ও চিনির দামও বেড়েছে। ২ সেপ্টেম্বর কোম্পানিগুলো বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়ায়। ফলে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা থেকে বেড়ে ২০৪ টাকা হয়েছে।
 
মাসখানেক আগে খোলা চিনি ১০৫ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন খুচরা বাজারে তা ১১৫ টাকা। মোড়কজাত চিনির দাম ১২০ টাকা কেজি।
 
পোলাও চাল বা সুগন্ধি চালের দামও এখনো কেজিপ্রতি ২০০ টাকার আশপাশে। সম্প্রতি বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ থাকায় দেশের বাজারে সরবরাহ কমে দাম বেড়েছে। এরপর গত মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমানোর প্রজ্ঞাপন জারি করে।
 
বাজার খরচ কমছে না
 
টাউন হল বাজারের ক্রেতা আবির হাকিম বলেন, ছয় মাসে বাজারের চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। কিছু পণ্যের দাম কমলেও ডিম, মাছ ও বেশির ভাগ সবজির দাম এখনো বেশি। ছয় মাস আগে ৫০০ টাকা দিয়ে যে পরিমাণ প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা যেত, এখন একই টাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। চাল, ডালসহ অন্যান্য খরচও বেড়েছে।
 
রাজধানীর তাজমহল রোডের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, তাঁর আয় কম। মাংসের মধ্যে মূলত মুরগিই কেনেন। কিন্তু সেই মুরগির দামও কমছে না।
 
সব মিলিয়ে গত ছয় মাসে বাজারে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন এসেছে ডিম, মুরগি ও মৌসুমি কয়েক ধরনের সবজির দামে। কয়েক ধরনের মাছের দামও বেড়েছে। গরুর মাংসের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও সামগ্রিক বাজার খরচ কমেনি। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপ রয়েই গেছে।
 




 

অর্থ-বাণিজ্য

বৃষ্টিতে বাড়ল সবজির দাম

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে চতুর্থ দিন ৯০৪১ গ্রাহকের ৩৯১ কোটি টাকা পরিশোধ

আরেক দফা বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম

রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা, দুই মাসে আয় ৭ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা আজ থেকে ফেরত পাবেন আমানতের মূল টাকা

দেশে মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা

সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ৫০ ধনীর তালিকা থেকে বাদ পড়লেন সামিটের আজিজ খান

বিনা সুদে মিলবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ, পাবেন যারা

স্বর্ণের দাম ভরিতে কমেছে ২ হাজার ২১৬ টাকা

খাদ্যের দামে ৪ বছরের রেকর্ড! সামনে আরও বড় ঝুঁকি

অর্থ-বাণিজ্য বিভাগের আরো খবর


1585646778.gif 1585646793.jpg 1585646805.gif

1615174445.gif

1761832476.jpg




Copyright © 2017-2026   |   Voice Asian - Asian Based News Portal
Contact: voiceasianinfo@gmail.com
   
Visitor Counter
Online22
Today2225
Yesterday5451
TOTAL7347164