ভয়েস এশিয়ান, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬।। যুদ্ধের উত্তাপ, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত আর সরবরাহ ব্যবস্থার টানাপোড়েনে ফের অস্থির হয়ে উঠেছে বিশ্ব খাদ্যবাজার। আগস্টে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। এতে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহ ও মূল্যস্থিতি নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এফএওর খাদ্যপণ্যের মূল্য পরিস্থিতি-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৩৩ দশমিক ৩ পয়েন্ট। জুলাইয়ের সংশোধিত ১৩০ দশমিক ৮ পয়েন্টের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরোর মতে, এ মূল্যবৃদ্ধি বাজারে ঝুঁকি ফিরে আসার একটি সতর্কসংকেত। জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন—সব মিলিয়ে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে।
আবহাওয়ার ধাক্কায় কৃষিপণ্য
ইউরোপের তীব্র দাবদাহ ও খরা কৃষি উৎপাদনে চাপ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে ভুট্টা, চিনি ও গবাদিপশু উৎপাদনে।
এশিয়ায় এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবে পাম তেল ও চিনি উৎপাদন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে এসব পণ্যের ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
যুদ্ধের প্রভাব সরবরাহ ব্যবস্থায়
দীর্ঘস্থায়ী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতও বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন চাপ তৈরি করেছে। যুদ্ধের কারণে সারসহ কৃষি উপকরণের সরবরাহ ব্যাহত হলে ভবিষ্যতে উৎপাদন খরচ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আগস্টে এফএওর প্রায় সব প্রধান খাদ্যপণ্যের সূচকই বেড়েছে। খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২০২৪ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ভোজ্যতেলের সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ।
সবচেয়ে বড় লাফ দিয়েছে চিনির দাম। আগস্টে চিনির মূল্যসূচক ১১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ২০২৫ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
কমছে বৈশ্বিক শস্য উৎপাদন
শুধু দাম বৃদ্ধিই নয়, বিশ্বে খাদ্য উৎপাদন নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। পৃথক এক পূর্বাভাসে এফএও জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনের হিসাব জুলাইয়ের পূর্বাভাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন কমিয়ে ২ দশমিক ৯৮০ বিলিয়ন টন করা হয়েছে।
এ উৎপাদন ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ কম। সংস্থাটির হিসাবে, এটি ২০১৮ সালের পর বিশ্ব শস্য উৎপাদনে সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন।
বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম বাড়ার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধ, প্রতিকূল আবহাওয়া ও সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা একসঙ্গে চলতে থাকলে খাদ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।