ভয়েস এশিয়ান, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬।। ইরানের সম্ভাব্য হামলা থেকে রক্ষা পেতে নিজেদের মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারে থাকা ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ বা মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং আইডি (এমএআইডি) নিষ্ক্রিয় করছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা। বাণিজ্যিকভাবে সহজলভ্য ‘লোকেশন ডেটা’ বা অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা সেনাদের ওপর ইরান হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খবর: রয়টার্স।
গত শুক্রবার মার্কিন সিনেটর রন ওয়াইডেনের প্রকাশিত একটি চিঠিতে বিষয়টি সামনে আসে। কয়েকজন সেনা কর্মকর্তাও রয়টার্সকে জানান, তাঁদের ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইসে এই ট্র্যাকার বন্ধ রাখা হয়েছে। 'অ্যাড ট্র্যাকার' মূলত ব্যবহারকারীর অবস্থান, অনলাইন কর্মকাণ্ড ও অ্যাপ ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করে লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন দেখায়। তবে এসব তথ্য ডেটা ব্রোকারদের হাত ঘুরে শত্রুপক্ষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
মার্কিন বিমানবাহিনী জানায়, প্রায় দুই মাস আগে তারা কম্পিউটার ও মোবাইলে ট্র্যাকার নিষ্ক্রিয় করেছে। স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড তাদের উইন্ডোজ ডিভাইসে এবং সেনাবাহিনী চলতি বছরের শুরু থেকেই মোবাইল ফোনে এ সুবিধা বন্ধ রেখেছে। ২০২১ সাল থেকেই সেনাবাহিনীর উইন্ডোজ কম্পিউটারে এটি বন্ধ ছিল এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অ্যান্ড্রয়েড ও অ্যাপল ফোনে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
সিনেটর রন ওয়াইডেন ও প্রতিনিধি প্যাট হ্যারিগান পেন্টাগনের কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে এ বিষয়ে বিশদ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। হ্যারিগান বলেন, অর্থ দিয়ে তথ্য কিনে শত্রুপক্ষ যেন মার্কিন সেনাদের গতিবিধি নজরদারি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পেন্টাগন জানিয়েছে, তারা আইনপ্রণেতাদের চিঠির জবাব সরাসরি প্রদান করবে।
প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ‘ডিক্রিপ্টঅ্যাডস’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক এডওয়ার্ডস এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক বললেও সতর্ক করে জানান, কেবল অ্যাড আইডি বন্ধ করলেই ঝুঁকি পুরোপুরি কাটে না। নেটওয়ার্ক ডেটা ও ডিভাইসের অন্যান্য কারিগরি তথ্য মিলিয়েও অবস্থান শনাক্ত করার সুক্ষ্ম ও জটিল পথ খোলা থাকে।
এদিকে, সেনাসদস্যদের মোবাইল ব্যবহারের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইন্টারনেটে পোস্ট করা ছবি বা ভিডিও বিশ্লেষণ করেও অবস্থান শনাক্ত করার সুযোগ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেত্রবিশেষে সেনাদের মোবাইল ফোন জমা নেওয়ার বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মার্কিন নেতৃত্ব ধারণা করেছিল সামরিক চাপে ইরানি নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে। তবে ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতির আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি; বরং উভয় পক্ষই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে।