| ঢাকা, বাংলাদেশ | সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
1767864071.png 1647622201.jpg

বিভাগ : আইটি/বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি তারিখ : ১২-০৯-২০২৬

এআই দিয়ে আ.লীগের ভুয়া সংবাদ প্রচার, ২৯ অ্যাকাউন্ট বন্ধ


  অনলাইন ডেস্ক


ভয়েস এশিয়ান, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬।। বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত একটি স্বয়ংক্রিয় প্রচারণা নেটওয়ার্ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের তৈরি চ্যাটবট ক্লড ব্যবহার করে বাংলা ভাষায় বিপুল সংখ্যক ভুয়া সংবাদ তৈরি করা হয়েছিল। মূলত দেশের গ্রামীণ জনসমষ্টিকে লক্ষ্য করে এই সংবাদগুলো তৈরি করা হয়েছিল। গাইবান্ধা জেলার একজন ব্যক্তি প্ল্যাটফর্মের নজরদারি ও ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা এড়াতে ২৯টি ক্লড অ্যাকাউন্ট ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যবহার করে প্রায় ১৬ মাস ধরে এই কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ‘ডিটেক্টিং অ্যান্ড কাউন্টারিং মিসইউজ অব এআই: সেপ্টেম্বর ২০২৬’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে অ্যানথ্রপিক। প্রতিবেদনে কার্যক্রমটিকে ‘জিটিজি-৫৪০০৬’ ক্লডে চিহ্নিত করা হয়েছে। নেটওয়ার্কটির কার্যক্রম মূলত আওয়ামী লীগের পক্ষে এবং দলটির প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে চালানো হতো।

অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতার বাইরে থাকায় এই প্রচারণা সরকারের পক্ষ থেকে নয়, বরং একটি বিরোধী রাজনৈতিক অবস্থান থেকে চালানো হয়েছে বলে তারা মূল্যায়ন করেছে।

প্রতিষ্ঠানটির তদন্তে দেখা গেছে, নেটওয়ার্কটি পরিচালনা করতেন গাইবান্ধা জেলার একজন একক ব্যক্তি, যিনি শনাক্তকরণ এড়াতে ২৯টি ক্লড অ্যাকাউন্ট পালাক্রমে ব্যবহার করতেন। প্রায় ১৬ মাস ধরে চলা এই কার্যক্রমে ‘ফেক_নিউজ_৩.পিওয়াই’ নামের একটি কাস্টম সফটওয়্যারের মাধ্যমে সরাসরি ক্লডের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে প্রতিটি ব্যাচে ১৫টি শিরোনাম, ৩টি বিস্তারিত বানোয়াট প্রতিবেদন এবং ১৫টি ছবি তৈরির নির্দেশনা (প্রম্পট) তৈরি করা হতো। সফটওয়্যারটির অন্তত তৃতীয় সংস্করণ পর্যন্ত ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে অ্যানথ্রপিক।

অ্যানথ্রপিকের তথ্যমতে, এই কনটেন্ট ফেসবুক লাইভ, ইউটিউব ও টিকটকে ধারাবাহিকভাবে প্রচারের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হতো, যার মূল লক্ষ্য ছিল সীমিত শিক্ষার সুযোগ পাওয়া গ্রামীণ আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা। পুরো কার্যক্রমে অন্তত ১৫০০টি শিরোনাম, ৩০০টি বানোয়াট প্রতিবেদন এবং ১৫০০টি ছবি তৈরির নির্দেশনা তৈরি হয়েছিল। যেহেতু ক্লড দিয়ে এখনো ছবি তৈরির সুযোগ নেই, তাই ধারণা করা হচ্ছে এসব নির্দেশনা অন্য কোনো এআই মডেলে ব্যবহার করে ছবি তৈরি করা হয়েছিল। তৈরি হওয়া কনটেন্ট প্রথমে একটি নির্দিষ্ট ক্লাউড স্টোরেজ ফোল্ডারে জমা রাখা হতো, পরে তা অডিও-ভিডিওতে রূপান্তর করে প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করা হতো।

অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে জড়িত ব্যক্তিরা নিজেরাই স্বীকার করেছেন যে, তারা জেনেশুনে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছিলেন। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত একটি বার্তায় বলা হয়েছে, কেউ জানে না খবরটি ভুয়া। কনটেন্ট এমনভাবে তৈরি করা হতো যাতে তা আক্রমণাত্মক ও সহজবোধ্য হয়, যাতে সীমিত শিক্ষার মানুষও তা সহজে বুঝতে পারেন এবং সত্যি খবর বলে বিশ্বাস করেন।

অ্যানথ্রপিকের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই নেটওয়ার্কের কনটেন্টে চারটি মূল বয়ান বারবার ব্যবহৃত হয়েছে। প্রথমত, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) তালেবান-ধাঁচের শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপত্তা বাহিনীতে অনুপ্রবেশের পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ও ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বিরুদ্ধে বানোয়াট হত্যা পরিকল্পনা ও ঘাতক দলের গল্প প্রচার করা হয়েছে। তৃতীয়ত, জুলাই আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চতুর্থত, বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে বানোয়াট আর্থিক দুর্নীতি ও গোপন জোটের অভিযোগ তোলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নেটওয়ার্কের একটি পৃথক স্ক্রিপ্ট ইউটিউবের এপিআই ব্যবহার করে ভিডিও বাল্ক-আপলোডের কাজ করত, যা তৃতীয় পক্ষের একটি কনটিনিউয়াস ইন্টিগ্রেশন সেবার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে এক মাস আগে থেকেই নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রকাশিত হতো। এই তৃতীয় পক্ষের সেবা ব্যবহার করার ফলে আসল পরিচালকের ইন্টারনেট ঠিকানাও (আইপি) আড়াল হয়ে যেত বলে জানিয়েছে অ্যানথ্রপিক। 

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, নেটওয়ার্কের কিছু বয়ান ভারতপন্থি ভূরাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গেও সংগতিপূর্ণ ছিল, তবে এর পেছনে কোনো রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা বা অর্থায়নের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

‘ব্রেকআউট স্কেল’ অনুযায়ী অ্যানথ্রপিক এই কার্যক্রমকে তৃতীয় শ্রেণিতে ফেলেছে, কারণ ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটক— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই তিন প্ল্যাটফর্মেই বাংলাদেশকেন্দ্রিক একাধিক চ্যানেল ও প্রোফাইলে এই কনটেন্টের সঙ্গে মিলে যাওয়া ভিডিও দেখা গেছে। তবে সম্পূর্ণ কনটেন্ট কোন কোন চ্যানেলে প্রকাশিত হয়েছিল, তা নির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি এবং এসব অ্যাকাউন্টের বাইরে বিস্তৃত পরিসরে কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণও মেলেনি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অ্যানথ্রপিক জানায়, তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ তদন্তের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শনাক্ত করে এর সঙ্গে যুক্ত সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। সেই সঙ্গে একই ধরনের নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরির চেষ্টা ঠেকাতে নেটওয়ার্কটির আচরণগত বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করে নতুন শনাক্তকরণ ব্যবস্থাও তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রমাণ শেয়ার করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য অংশীদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। তবে ক্লাউড স্টোরেজ ফোল্ডারের পরিচয় ও আপলোড স্ক্রিপ্টের মতো কিছু কারিগরি তথ্য নিরাপত্তার স্বার্থে জনসমক্ষে প্রকাশ না করে শুধু অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে।

বাংলাদেশের এই ঘটনাটি অ্যানথ্রপিকের সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বর্ণিত মোট নয়টি এআই অপব্যবহারের ঘটনার একটি। প্রতিবেদনে রাশিয়া, ইরান, তুরস্ক, উপসাগরীয় অঞ্চল, দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ থেকে পরিচালিত একাধিক প্রভাব বিস্তারকারী নেটওয়ার্কের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে জড়িত ছিল সরকার, রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট প্রচারণা প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা ও রাজনৈতিক দল। এসব ঘটনার মধ্যে বাংলাদেশের ঘটনাটিই একমাত্র উদাহরণ, যেখানে কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নয় বরং একজন এককভাবে কাজ করা রাজনৈতিক কর্মী এআই ব্যবহার করে এত বড় পরিসরে ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করতে পেরেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অ্যানথ্রপিক বলছে, ক্লডের অপব্যবহার শনাক্ত ও প্রকাশ করা তাদের দায়িত্বের অংশ। গত আট মাসে সাইবার হামলা, ভুয়া তথ্য ও অপপ্রচার, নজরদারি, মডেল চুরি এবং বায়োলজিক্যাল অপব্যবহারের মতো ঘটনায় ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো নিষিদ্ধ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এআই এখন কম দক্ষ ব্যক্তি বা ছোট গোষ্ঠীকেও বড় ধরনের সাইবার হামলা ও অপপ্রচার চালানোর সক্ষমতা দিচ্ছে। এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার, গবেষক ও অন্যান্য এআই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তথ্য শেয়ার এবং সম্মিলিত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি বলেও মত দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

 





 

আইটি/বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

সাড়ে ৫ হাজার টাকায় স্মার্টফোন

দিন দিন ‘গরিব’ হচ্ছেন ইলন মাস্ক

আইসিটি উন্নয়নে মুসলিমবিশ্বে এগিয়ে সৌদি আরব

ডিপফেক কী? যেভাবে বুঝবেন ছবি-ভিডিও ডিপফেক

ফেসবুকের বিরক্তিকর নোটিফিকেশন বন্ধ করবেন যেভাবে

৪০ মিনিট পর ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামের ‘কামব্যাক’

শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালু

অনলাইন গেমিংয়ের ওপর বসছে ২৫ শতাংশ উৎসে কর

অ্যালগরিদমে বড় পরিবর্তন, ইনস্টাগ্রামে কপি কন্টেন্ট শেয়ারের বিষয়ে কড়াকড়ি

তীব্র জ্বালানি সংকটে টেলিযোগাযোগ খাতে নেটওয়ার্ক সচল রাখা যাচ্ছে না সর্বত্র

আইটি/বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের আরো খবর


1585646778.gif 1585646793.jpg 1585646805.gif

1615174445.gif

1761832476.jpg




Copyright © 2017-2026   |   Voice Asian - Asian Based News Portal
Contact: voiceasianinfo@gmail.com
   
Visitor Counter
Online11
Today2444
Yesterday5288
TOTAL7358194