ঢাকার বাইরের কর্মসূচিতে তারেক রহমানকে বহনকারী লাল সবুজের বাসের ব্যবহার দেখা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে, একসাথে অনেক মানুষের যাতায়াতের সুবিধা এবং অতিরিক্ত ব্যয় কমাতেই ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ লেখা লাল সবুজের বাসের ব্যবহার করা হচ্ছে।
মন্ত্রীদের যাতায়াতে রাস্তায় যানজট কমাতে এবং জনগণের ভোগান্তি রোধ করতে মন্ত্রিপরিষদ সভাগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিবর্তে সচিবালয়ে করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফলে একদিকে মন্ত্রীদের যাতায়াতে সরকারি খরচ কমছে, অন্যদিকে সময় কাজে লাগছে।
তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরে আপ্যায়ন ভাতা কাটছাঁট করেছেন। জুন মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন ব্যয় হয়েছে ১১ লাখ ৬৯ টাকা। এছাড়াও দুই ঈদে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা।’ অথচ ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন খাতে প্রতিবছর ব্যয় হয়েছিল গড়ে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা। এই ব্যয়ের বাইরেও দেখা গেছে প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করা হয়েছে। যেমন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এই খাতে খরচ হয়েছিল ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খাবার সরবরাহ করতো। বিগত সরকারের সময়ে এই বিশাল অঙ্কের টাকা এখনো বাকি রয়ে গেছে, যা বর্তমান সরকারকেই পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করতে হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ব্যয় সংকোচনের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এবার বাজেট পরবর্তী নৈশ ভোজ বাতিল করেছেন। এতে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
জনগণের প্রতি কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, তার দলের কোনো আইনপ্রণেতা সরকারের সুবিধা নিয়ে করমুক্ত গাড়ি আমদানি করতে পারবে না।
সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয় ও মাসিক জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বরাদ্দ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া এবং সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে। সরকারি অর্থায়নে সকল প্রকার বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, সেমিনার এবং ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ ও অন্যান্য অবকাঠামো খাতে ব্যয় সীমিত করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ব্যয় ব্যতীত অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং সভা/সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ এবং সেমিনার/কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে। ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান এবং কম্পিউটার ক্রয় শতভাগ হ্রাস করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ করে কৃচ্ছ্রসাধন করাকে ইমানি দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি/বিদ্যুৎ/গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ কমানো আবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ কমানোর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। একই সাথে ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় শতভাগ হ্রাস করতে বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় তহবিল ব্যবস্থাপনায় কঠোর মিতব্যয়িতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিটি সরকারি ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তা কঠোরভাবে যাচাই করার এবং প্রটোকলের গাড়িবহর সীমিত করার জন্য নির্দেশনা রয়েছে। এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনকল্যাণমূলক খাতে তহবিলের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা।