| ঢাকা, বাংলাদেশ | শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ |
1767864071.png 1647622201.jpg

বিভাগ : জাতীয় তারিখ : ২৯-১০-২০২৬

বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বড় অগ্রগতি

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন


  অনলাইন ডেস্ক


ভয়েস এশিয়ান, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬।। বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পাবনার রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর প্রক্রিয়ায় এগোনোর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

একই সময়ে দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রসাটম। এতে দেশের বৃহৎ এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের দুটি ইউনিট চালুর প্রস্তুতি নতুন গতি পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদনের বিষয়টি জানা যায়। সংশ্লিষ্ট কারিগরি পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য তৈরি জ্বালানি অ্যাসেম্বলির প্রথম চালান বিশেষ কার্গো ফ্লাইটে বাংলাদেশে পৌঁছেছে বলে রসাটমের বাংলাদেশি জনসংযোগ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতি

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে চালুর প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ক্রিটিক্যালিটির দিকে এগোনো হচ্ছে। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ভেতরে নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক পারমাণবিক বিভাজন প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিতভাবে তাপশক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা ও প্রযোজ্য নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করে প্রকল্পটির বিভিন্ন পরীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে। রিঅ্যাক্টরের প্রাথমিক পরীক্ষা ও প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় স্টেজ বি-১-এর কাজ এগিয়েছে। স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের পরীক্ষা নিয়ে জটিলতা কাটিয়ে পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।

এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরকে প্রাথমিক পরিচালনার উপযোগী করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে শক্তি বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, বিভিন্ন কারিগরি সরঞ্জাম ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। নির্ধারিত শক্তিস্তরে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পর জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের দিকে এগোনো সম্ভব হবে।

রসাটমের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর কোরে পারমাণবিক জ্বালানির প্রাথমিক লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। চলতি অক্টোবর মাসে ইউনিটটি সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তিস্তরে পৌঁছেছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ধারাবাহিকতায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি মাইলফলক।

দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি বাংলাদেশে

প্রথম ইউনিটের পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের প্রস্তুতিতেও অগ্রগতি হয়েছে। রসাটমের জ্বালানি বিভাগের অধীন সাইবেরিয়ায় অবস্থিত নোভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেট প্ল্যান্টে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি অ্যাসেম্বলিগুলো তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকেই প্রথম চালানটি বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।

দেশে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এসব জ্বালানি রূপপুর কেন্দ্রে ব্যবহারের উপযোগিতা যাচাই করা হবে। জ্বালানির অখণ্ডতা, প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য এবং পারমাণবিক ও বিকিরণ নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণের বিষয়গুলো পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।

রসাটমের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ, প্রধান ঠিকাদার এবং জ্বালানি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ কমিশন এসব পরীক্ষা ও পরিদর্শন পরিচালনা করবে। নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই জ্বালানি ব্যবহারের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

এদিকে প্রথম ইউনিটের প্রথম রিফুয়েলিং বা জ্বালানি পুনঃস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় নতুন জ্বালানিও সাইবেরিয়া থেকে বাংলাদেশে পৌঁছেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্ধারিত জ্বালানি চক্র অনুসারে পরবর্তী সময়ে এই জ্বালানি ব্যবহার করা হবে।

২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের সম্ভাবনা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জেনারেশন থ্রি-প্লাস প্রযুক্তির দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হবে।

এই বিদ্যুৎ দেশের সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নগর অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসে বৈচিত্র্য আনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনাতেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

একই সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিচালনায় বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা বাড়বে। উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর এ খাতে দক্ষ জনবল তৈরি, পরিচালন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তামান অনুসরণের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই এগোচ্ছে কার্যক্রম

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর ক্ষেত্রে প্রতিটি কারিগরি ধাপ নির্ধারিত নিয়ম ও নিরাপত্তাবিধি অনুসারে সম্পন্ন করা জরুরি। রূপপুরেও জ্বালানি ব্যবহার থেকে শুরু করে রিঅ্যাক্টরের কার্যক্রম এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা ও যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

জ্বালানি অ্যাসেম্বলির পরিদর্শনে দৃশ্যমান অবস্থা ও যন্ত্রের সাহায্যে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হবে। এর মাধ্যমে জ্বালানির অখণ্ডতা এবং নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মান পূরণের বিষয়টি যাচাই করা হবে। পাশাপাশি রিঅ্যাক্টরের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও অন্যান্য কারিগরি ব্যবস্থার কার্যকারিতাও পর্যায়ক্রমে মূল্যায়ন করা হবে।

প্রথম ইউনিটে প্রাথমিক জ্বালানি লোডিং এবং সর্বনিম্ন নিয়ন্ত্রণযোগ্য শক্তিস্তরে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে চালুর প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তবে এসব অগ্রগতি বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সমতুল্য নয়। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিতে হলে শক্তি পর্যায়ক্রমে বাড়ানো, বিভিন্ন শক্তিস্তরে পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে।

জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের অপেক্ষা

রূপপুর প্রকল্পের প্রধান ডিজাইনার ও প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে রসাটমের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় নির্মিত এই কেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য সংযোজন হবে।

প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের আগে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে রিঅ্যাক্টরের শক্তি পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর পরীক্ষা, বিভিন্ন শক্তিস্তরে কার্যকারিতা যাচাই, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা মূল্যায়ন। এসব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পরই বিদ্যুৎ সরবরাহের পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে, প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানো রূপপুর প্রকল্পের জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন হলে প্রকল্পটি পূর্ণ উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাবে। দুটি ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত করার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা দেশের বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

 

 





 

জাতীয়

জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

মধ্যরাতে ইলিশ শিকারে সাগরে নামছেন জেলেরা

জাপান সফর শেষে দেশের পথে প্রধানমন্ত্রী

থামছেই না হাম উপসর্গে মৃত্যু, আরও ৭ প্রাণহানি

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো, এ সরকারের সময়ে গুম-ক্রসফায়ার হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত যুব মেলা স্থগিত করা হয়েছে: আমিনুল হক

পেশাদারিত্ব ও মানবিকতায় ‘জনগণের পুলিশ’ গড়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

টোকিওতে হাসপাতাল ও জাদুঘর পরিদর্শন করলেন ডা. জুবাইদা রহমান

জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশ গঠনে প্রতিটি প্রবাসীকে ‘রাষ্ট্রদূত’ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় বিভাগের আরো খবর


1585646778.gif 1585646793.jpg 1585646805.gif

1615174445.gif

1761832476.jpg




Copyright © 2017-2026   |   Voice Asian - Asian Based News Portal
Contact: voiceasianinfo@gmail.com
   
Visitor Counter
Online18
Today4067
Yesterday7594
TOTAL7665490