ভয়েস এশিয়ান, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬।। রাজধানীর সড়ক যোগাযোগ, পথচারীদের চলাচল এবং পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, ফুটপাত ও নর্দমা সংস্কারে ৭১৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্প আগামীকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উঠছে।
একই সঙ্গে তুরাগ নদের দূষণ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে প্রায় ১৮৪ কোটি টাকার আরেকটি প্রকল্পও অনুমোদনের জন্য তোলা হচ্ছে। দুটি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নগরের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন অগ্রগতি আসতে পারে।
১০টি এলাকার সড়ক ও ফুটপাত সংস্কার
প্রস্তাবিত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, শাহবাগ, রমনা, পল্টন, শাহজাহানপুর, লালবাগ, বংশাল, যাত্রাবাড়ী ও মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন সড়ক, ফুটপাত ও নর্দমা সংস্কার করা হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত, পথচারীদের চলাচলের উপযোগী ফুটপাত তৈরি এবং নর্দমার পানিনিষ্কাশন সক্ষমতা বাড়ানো। পাশাপাশি প্রধান সড়কের বিভাজক সংস্কারেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নগরের বিভিন্ন সড়ক ও নর্দমার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করা গেলে যানবাহন চলাচল এবং পানি নিষ্কাশনের বিদ্যমান সমস্যাগুলো কমানো সম্ভব হবে। ফুটপাত উন্নয়নের মাধ্যমে পথচারীদের চলাচলও আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করার লক্ষ্য রয়েছে।
সরকারি ও সিটি করপোরেশনের অর্থায়ন
প্রকল্পটির মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ৭১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৪৯৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে ২১৪ কোটি টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারি অর্থের ৬০ শতাংশ ঋণ এবং ৪০ শতাংশ অনুদান হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। অনুমোদন পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার দায়িত্ব থাকবে ডিএসসিসির ওপর।
তুরাগের দূষণ নিয়ন্ত্রণে ১৮৪ কোটি টাকার উদ্যোগ
রাজধানী ও আশপাশের পরিবেশ সুরক্ষায় তুরাগ নদের দূষণ পর্যবেক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণেও নতুন প্রকল্প নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ১৮৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ‘মেট্রো ঢাকা পানি নিরাপত্তা ও সহনশীলতা কর্মসূচির’ আওতায় পরিবেশ অধিদপ্তর এটি বাস্তবায়ন করবে।
২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব রয়েছে। এর আওতায় গাজীপুর সিটি করপোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং সাভার পৌরসভার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তুরাগ নদের দূষণের উৎস শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হবে।
দূষণপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে হটস্পট মানচিত্র তৈরি করা হবে। পাশাপাশি নদে বর্জ্য ফেলছে এমন অননুমোদিত ও অনিয়মিত শিল্পকারখানার তালিকা প্রস্তুত করা হবে। শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা তদারকি এবং পরিবেশবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
দূষণ শনাক্তে ব্যবহার হবে ড্রোন
তুরাগ নদের দূষণ পর্যবেক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। নদীর তীরে অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে কি না, তা শনাক্ত করতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি শিল্পকারখানা থেকে নির্গত পানির গুণগত মান তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে শুধু প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে দূষণ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নগর–পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান। তাঁর মতে, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন, রাজউক ও জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করা জরুরি। নিয়মিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।
একনেকে উঠছে ১৫টি প্রকল্প
প্রস্তাবিত সড়ক উন্নয়ন ও নদী দূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পসহ মোট ১৫টি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য তোলার কথা রয়েছে। ২৫ অক্টোবর সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় সভায় সভাপতিত্ব করার কথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে রাজধানীর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং তুরাগ নদের দূষণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ। সড়ক, ফুটপাত ও নর্দমার উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।