ভয়েস এশিয়ান, ৩১ আগষ্ট, ২০২৬।। আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা রমজানের পর ১৪ মার্চ থেকে শুরু হবে। তবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পূর্বঘোষিত সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এ পরীক্ষা আগামী ৬ জুন থেকেই শুরু হবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে চীন সফর-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব তথ্য জানান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সবকিছু বিবেচনা করেই রোজার পর এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে। আপাতত এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে রমজান, ঈদুল ফিতর, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত বিবেচনা করা হয়েছে। আগে জানুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হলেও রমজানের কারণে তা পরিবর্তন করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসকে এসএসসি পরীক্ষার উপযুক্ত সময় মনে করা হলেও এবার রমজানের কারণে ওই সময়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। রমজানের আগে পরীক্ষা নিলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও পাঠ্যবিষয় পুনরালোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে না। তাই সবদিক বিবেচনা করে রমজানের পর পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। প্রায় দেড় বছর আগেই পরীক্ষার সময় সম্পর্কে জানানো হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি না হলে আপাতত এসএসসি পরীক্ষা আরও পেছানোর কোনো কারণ নেই।
নতুন সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমানের তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১৪ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এরপর ব্যবহারিক পরীক্ষা ২২ এপ্রিলের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৭ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ৬ জুন থেকে শুরু হবে। আপাতত এই পরীক্ষার সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে সরকার। এ খাতের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের বিষয়েও কাজ চলছে।
জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় চীনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ খাতে চীনের সফল অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে কাজে লাগানোর লক্ষ্যেই দেশটির আমন্ত্রণে সাম্প্রতিক সফর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষকদের আরও প্রশিক্ষিত করার লক্ষ্যে চীনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
দেশে শিক্ষার তৃতীয় ভাষা হিসেবে ম্যান্ডারিন বা চীনা ভাষাকে প্রাধান্য দেওয়ার কথাও জানান মাহদী আমিন। দেশে অনেক চীনা কোম্পানি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে দক্ষ জনবল সরবরাহ করতে চায় বাংলাদেশ। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বিশ্বমানের করার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।