ভয়েস এশিয়ান, ২৬ আগষ্ট, ২০২৬।। সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে এমন কোনো অপরাধ হয়নি, যা সংঘটিত হওয়ার পরপরই পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি বা আইনের আওতায় আনতে পারেনি। এটাই বর্তমান সরকারের কৃতিত্ব।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঈদ-ই মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল ভঙ্গুর অবস্থায় ছিল। গত ছয় মাসে সেই অবস্থার উন্নতি করা হয়েছে এবং তাদের মনোবল ফিরে এসেছে। এখন তারা সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে অপরাধ দমনে সচেষ্ট হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রংপুরের ঘটনা সংঘটিত হওয়ার যৌক্তিক সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। রামিসা হত্যা থেকে শুরু করে জাতীয়ভাবে আলোচিত ও অনালোচিত প্রতিটি অপরাধই সরকার মোকাবিলা করতে পেরেছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়ে এসে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ক্ষেত্রমতে সমাজের চাহিদা অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত সময়ে বিচারিক কার্যক্রম শেষ করতেও সহযোগিতা করা হয়েছে। ‘এই স্বল্প সময়ে এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করি বোধহয় ঠিক হবে না,’ বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, পুলিশ বাহিনী জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত হবে। অন্যান্য বাহিনীর আইনি কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তাদের জবাবদিহি এবং কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রে ‘দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। রাতারাতি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আশা করা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে এমন পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হবে, যাতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে জনগণের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, অন্তত তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে হবে। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি।
এর আগে ঈদ-ই মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে ন্যায়, শান্তি, সাম্য ও শৃঙ্খলার পথে চলতে হবে। তাহলে দেশে কোনো অশান্তি, বিশৃঙ্খলা ও অসাম্য থাকবে না।
তিনি বলেন, বর্তমানে সারা বিশ্বে যুদ্ধময় পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব চলছে। সাম্য ও ন্যায়ের পথে থাকলে এবং অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারলে এসব সমস্যা থাকবে না।
ব্যক্তি, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে শান্তি, ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।