ভয়েস এশিয়ান, ২৭ আগষ্ট, ২০২৬।। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে দেশের শিল্প, ব্যবসা ও জনজীবনে যখন নানা ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে, তখন জ্বালানি খাতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি। বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে দেশজুড়ে উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০-এর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রুফটপ সোলার থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সারা দেশে রুফটপ সোলার সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং কার্যকর সোলার সেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলা ও ভৌগোলিক এলাকাভিত্তিক যোগ্য সার্ভিস প্রোভাইডার তালিকাভুক্ত করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক প্যাকেজ, গ্রাহকসেবা এবং পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা দেবে।
এ উদ্যোগে স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, তরুণ, নারী উদ্যোক্তা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। জাতীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞ কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তারা প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সক্ষমতাও বাড়াতে পারবেন।
রুফটপ সোলারে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনা, কর ও শুল্ক সুবিধা, সহজ ও স্বল্পসুদে অর্থায়ন এবং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়েও কাজ করছে সরকার। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে গ্রামীণ ও দূরবর্তী এলাকার গ্রাহক ও উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার ওপর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাসের সরবরাহ সংকট, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় এবং জ্বালানি আমদানির চাপের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি বিকল্প। রুফটপ সোলার শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই ভূমিকা রাখবে না, স্থানীয় ব্যবসা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগও সৃষ্টি করতে পারে।
পঞ্চগড় থেকে পটুয়াখালী, কুড়িগ্রাম থেকে কক্সবাজার—দেশের প্রতিটি অঞ্চলের উদ্যোক্তাকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাজারে যুক্ত করার লক্ষ্য সরকারের। ফলে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।