ভয়েস এশিয়ান, ১৫ আগষ্ট, ২০২৬।। নয়া দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর ঘিরে চড়ছে কূটনৈতিক পারদ, যদিও আনুষ্ঠানিক সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে দুই দেশই। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে আগস্টের শেষার্ধে (২২-২৩ আগস্ট) এই সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার গুঞ্জন তীব্র হলেও, ঢাকা কিংবা দিল্লি—কোনো পক্ষই এখনো পাকা কথা দেয়নি। ফলে সফর কেন্দ্রিক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ধোঁয়াশা অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার নয়া দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সফর প্রস্তাবের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপক্ষীয় সফর ছাড়াও আসন্ন সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের বিশেষ ‘আউটরিচ’ অধিবেশনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে সফরের চূড়ান্ত সূচি নির্ধারিত হলে তা জানানো হবে বলে জানান তিনি।
দুই দেশের কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আমন্ত্রণ জানানো এবং সফর চূড়ান্ত হওয়া দুটি ভিন্ন ধাপ। ফলে দিল্লির ইতিবাচক অবস্থান থাকলেও শেষ পর্যন্ত এটি কবে নাগাদ বাস্তবায়িত হবে, তা নির্ভর করছে অনেকগুলো কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের ওপর।
আলোচনার পরিধি ও সম্ভাব্য এজেন্ডা
যদি শেষ পর্যন্ত সফরটি আলোর মুখ দেখে, তবে এটিই হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক ভারত সফর। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর সূত্রে জানা গেছে, এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। বৈঠকে গুরুত্ব পেতে পারে:
- বাণিজ্য ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা
- জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংযোগ (কানেক্টিভিটি)
- আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত সহযোগিতা
ঢাকার ভারতীয় মিশন থেকেও জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানাতে দিল্লি প্রস্তুত, তবে সূচি নির্ধারণের বিষয়টি ঢাকার অগ্রাধিকারের ওপর নির্ভর করছে।
প্রত্যর্পণ ও ব্রিকস সম্মেলন
এই সফর বিলম্বিত বা অনিশ্চিত হওয়ার নেপথ্যে প্রধান নিয়ামক হিসেবে দেখা হচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানকে। তাঁর প্রত্যর্পণ ইস্যুটি ঢাকার রাজনীতি ও কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য ট্রিবিউন’-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রত্যর্পণ ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি না হলে এই সফর স্থগিত থাকতে পারে। যদিও বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এমন কোনো শর্ত আরোপের কথা দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ প্রসঙ্গে ইতিবাচক সংকেত দিয়ে জানিয়েছেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন ও জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের শীর্ষ বৈঠক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
একই সঙ্গে, আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের আমন্ত্রণ পর্যালোচনা করছে ঢাকা। বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশকে এই আমন্ত্রণ জানানো হলেও, এতে অংশ নেওয়া কিংবা সফর সূচি সমন্বয়ের বিষয়টি এখনো সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।