ভয়েস এশিয়ান, ০২ নভেম্বর, ২০২৬।। গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড এর শিবু মার্কেট এলাকায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রেখেছিল গার্মেন্টস শ্রমিকরা। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টা থেকে শিবু মার্কেট, কাঠেরপুলবিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত গার্মেন্টস শ্রমিকরা মিছিল নিয়ে শিবু মার্কেট এলাকায় এসে জড়ো হয়। পরে তারা একযোগে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড এর দুই পাশে অবস্থান নিয়ে ওভারপাসসহ দুই পাশের রাস্তা বন্ধ করে দেয়।
এ সময় শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি তিরিশ হাজার টাকা করার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। সড়ক অবরোধের কারণে লিংক রোডের ৮ কিলোমিটার জুড়ে উভয়পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যায়। সড়ক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে পথচারী ও বাস যাত্রীদের। যাত্রীরা পায়ে হেঁটে রাস্তা পারাপার হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। আবার অনেকে এক ঘন্টা ধরে বসে আছে গাড়ির মধ্যে। বিকেল ৪টার দিকে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিএনপি যুবদল ও শ্রমিকদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকদের বুঝিয়ে আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা ঘরে ফিরে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ঢাকা-নারায়গঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় অবরোধ করেছে গার্মেন্টস শ্রমিকরা। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর ১২ টা থেকে ফতুল্লার শিবু মার্কেট, কাঠেরপুল সহ বিভিন্ন এলাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকরা মিছিল নিয়ে শিবু মার্কেট এলাকায় এসে জড়ো হয়। গার্মেন্ট থেকে শ্রমিকদের বের করা নিয়ে ভূইগড়ে একটি গার্মেন্টে শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রমিকরা একযোগে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে ওভারপাস সহ দুই পাশের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। সেই সাথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সড়কে দুর্ভোগ পোহাতে হয় পথচারী ও বাস যাত্রীদের। যাত্রীরা পায়ে হেঁটে নিজ নিজ গন্তব্যে যান। আবার অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বসে থাকেন গাড়ির মধ্যে।
পরবর্তীতে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর ৪ টার দিকে সংসদ সদস্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান প্রেক্ষাপটে যে টাকা বেতন পান সেই বেতন দিয় তাদের সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন বাড়লেও গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন বেশ কয়েক বছর ধরে বাড়ছে না। তাই তারা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন।
হাসানুর রহমান নামে একজন শ্রমিক বলেন, যেভাবে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আমরা টিকে থাকতে পারছি না। সরকারি কর্মকর্তারা যেখান থেকে বাজার করে আমরা সেখান থেকেই বাজার করছি। তাদের বেতন বাড়লে শ্রমিকদের বেতন কেন বাড়বে না? আমরা সরকারের পাাশে দাঁড়ালে শ্রমিক কেন আমাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না? আমাদের বেতন ৩০ হাজার টাকা না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়ছি না।
নুর আলম নামে আরেকজন শ্রমিক বলেন, বর্তমানে আমাদের যে বেতন দেয় আমরা সেই বেতন চলতে পারি না। আমাদের বেতন ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। মজুরি বোর্ড গঠনের পর আন্দোলন হওয়ার কথা না। নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে শ্রমিক বিক্ষোভ করেছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিলো। কিন্তু স্বার্থান্বেসী মহল এখানে উস্কানি দিচ্ছে। এটা বরদাশত করা হবে না। সাধারণ শ্রমিকের সাথে আমরা আছি। সরকার তাদের বিষয়টি দেখবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, আমরা শ্রমিকদের আশ^স্ত করেছি সবাইকে নিয়ে যুক্তি সংঙ্গত সমাধান অচিরেই হবে। সেই পর্যন্ত শ্রমিকদের প্রতি অনুরোধ তারা ধৈয্য ধরে অপেক্ষা করেন। আমরা শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবীগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরবো।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়া নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ শ্রমিকদের উদ্দেশ্য বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী সকলের জন্য সহায়ক। আলোচনা মাধ্যমে সকলের সমস্যা সমাধান হবে। আমাদের শ্রমের বিনিময়ে সরকার এসেছে। আমরা শ্রমিকদের পাশে আছি। আপনারা কারও উস্কানির শিকার হবেন না।