| ঢাকা, বাংলাদেশ | বৃহস্পতিবার, ২০ আগষ্ট ২০২৬ |
1767864071.png 1647622201.jpg

বিভাগ : জাতীয় তারিখ : ১৯-০৮-২০২৬

মহাসড়কে নামছে সওজের ৬০ অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স


  ভয়েস এশিয়ান ডেস্ক


ভয়েস এশিয়ান, ১৯ আগষ্ট, ২০২৬।। সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য দেশের মহাসড়কগুলোতে শিগগিরই ৬০টি অত্যাধুনিক বেসিক লাইফ সাপোর্ট (বিএলএস) অ্যাম্বুলেন্স নামানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনের প্রধান কার্যালয়ে নিজ দপ্তরে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি একথা জানান।

সওজের প্রধান প্রকৌশলী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো দিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক করিডরে পাইলট কার্যক্রম শুরু করা হবে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় কল সেন্টারের মাধ্যমে সবচেয়ে কাছের অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে। পাশাপাশি মহাসড়কের পাশে নির্দিষ্ট দূরত্বে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক বা ‘বাইস্ট্যান্ডার কেয়ার’ কর্মী রাখার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। কিন্তু অনেক সময় দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্স পেতে দেরি হয়, আবার দুর্ঘটনাস্থল থেকে হাসপাতালে নেওয়ার আগ পর্যন্ত আহত ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও থাকে না। এ কারণে মহাসড়কে একটি সমন্বিত জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনার পর ‘গোল্ডেন আওয়ার’ কাজে লাগানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাবে, আহত ব্যক্তিকে বেসিক লাইফ সাপোর্ট দেবে এবং দ্রুততম সময়ে নিকটস্থ উপযুক্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে। পুরো পরিকল্পনার আওতায় দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক করিডরে অত্যাধুনিক বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি জানান, একসঙ্গে পুরো ব্যবস্থাটি চালু না করে প্রথমে সীমিত পরিসরে পাইলটিং করা হবে। এজন্য ৬০টি অ্যাম্বুলেন্সকে প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট করিডরে মোতায়েন করা হচ্ছে। পাইলট কার্যক্রমের আওতায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মহাসড়ক করিডর নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে চন্দ্রা-এলেঙ্গা হয়ে রংপুর পর্যন্ত হাইওয়ে করিডর, হাটিকুমরুল থেকে নাটোর হয়ে রাজশাহীর কাটাখালী পর্যন্ত করিডর এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক রয়েছে।

সওজের প্রধান প্রকৌশলী বলেন, এসব করিডরে অ্যাম্বুলেন্সগুলো কৌশলগতভাবে অবস্থান করবে। নির্দিষ্ট অংশে প্রায় ১০ কিলোমিটার পরপর অ্যাম্বুলেন্স রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর দূরবর্তী কোনো স্থান থেকে অ্যাম্বুলেন্স আসার অপেক্ষা করতে হবে না। নিকটস্থ অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারবে।

তিনি বলেন, চন্দ্রা-এলেঙ্গা হয়ে রংপুর পর্যন্ত হাইওয়ে করিডরে প্রতি ১০ কিলোমিটারে অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। একইভাবে হাটিকুমরুল থেকে নাটোর হয়ে রাজশাহীর কাটাখালী পর্যন্ত করিডর এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের নির্ধারিত অংশেও অ্যাম্বুলেন্স থাকবে।

অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে কার্যকর করতে একটি কেন্দ্রীয় কল সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। এ কল সেন্টার ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহের সাত দিন চালু থাকবে। সড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে নির্ধারিত হটলাইন নম্বরে ফোন করার পর সেই কল সরাসরি কেন্দ্রীয় কল সেন্টারে চলে যাবে।

প্রধান প্রকৌশলী জানান, কল সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা দুর্ঘটনার সংবাদদাতার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। ফোনকারীর অবস্থান শনাক্ত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থলের অবস্থান ও আহতের সংখ্যা সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হবে। এরপর কেন্দ্রীয় কল সেন্টার থেকে সবচেয়ে কাছের অ্যাম্বুলেন্সকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে।

তিনি বলেন, কল সেন্টার কলারের লোকেশন শনাক্ত করবে। তার কাছ থেকে যে তথ্য পাওয়া যাবে, সেই তথ্যের ভিত্তিতে সবচেয়ে কাছের অ্যাম্বুলেন্সকে সেখানে মোতায়েন করা হবে। এতে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্স পাঠাতে সময় কমবে বলে মনে করেন তিনি।

মো. মনিরুজ্জামান বলেন, একই সঙ্গে কল সেন্টার থেকে দুর্ঘটনাস্থলের স্থানীয় প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের কাছেও তথ্য পাঠানো হবে। অ্যাম্বুলেন্সে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি অ্যাম্বুলেন্সে তিনজন করে স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ থাকবেন। তারা আট ঘণ্টা করে পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে ২৪ ঘণ্টাই অ্যাম্বুলেন্সে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী পাওয়া যাবে। একইভাবে চালকদেরও শিফটভিত্তিক দায়িত্ব থাকবে। ফলে দিন বা রাত যেকোনো সময় দুর্ঘটনার খবর পেলে অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হতে পারবে।

স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদদের যোগ্যতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান সওজের প্রধান প্রকৌশলী।

তিনি বলেন, তারা সংশ্লিষ্ট পেশাগত প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা সম্পন্ন এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করবেন। এসব অ্যাম্বুলেন্সকে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এগুলো মূলত বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স। তবে দুর্ঘটনায় আহত রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে জরুরি বেসিক লাইফ সাপোর্ট দেওয়ার জন্য অক্সিজেন বোতলসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকবে।

প্রধান প্রকৌশলী জানান, জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবাটি দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জন্য বিনামূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। রোগীকে প্রথমে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা জেনারেল হাসপাতাল কিংবা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল- যে প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে উপযুক্ত হবে সেখানে নেওয়া হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঢাকায় নেওয়ার প্রয়োজন হলে সেই ব্যবস্থাও করা হবে। পুরো সার্ভিসটি বিনামূল্যে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত সময়কে কাজে লাগাতে ‘বাইস্ট্যান্ডার কেয়ার’ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থার আওতায় মহাসড়কের পাশে বসবাসকারী স্থানীয় মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার উপযোগী করে তোলা হবে।

প্রধান প্রকৌশলী বলেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটলে আশপাশের মানুষই সাধারণত সবার আগে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা দোকানদার, পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা কিংবা অন্য যেকোনো ব্যক্তি হতে পারেন। কিন্তু প্রশিক্ষণ না থাকায় অনেক সময় তারা কীভাবে আহত ব্যক্তিকে সহায়তা করবেন, তা জানেন না। কখনো ভুলভাবে রোগীকে সরাতে গিয়ে ক্ষতিও হতে পারে। এ কারণে মহাসড়কের নির্দিষ্ট অংশে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, নির্ধারিত হাইওয়ে করিডরে প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ মিটার পরপর দুজন করে স্বেচ্ছাসেবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা বা ফার্স্ট এইড বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এসব স্বেচ্ছাসেবক বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করবেন। তাদের প্রত্যেককে ফার্স্ট এইড বক্স দেওয়া হবে এবং আলাদা পোশাক বা পরিচিতিমূলক ড্রেস থাকবে।

সওজের প্রধান প্রকৌশলী জানান, শুরুতেই বড় পরিসরে পুরো ব্যবস্থাটি চালু না করে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা নেওয়া হবে। কারণ পরিকল্পনা করার সময় যে বিষয়টি কার্যকর মনে হয়, মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের সময় সেখানে কিছু সমস্যা বা ঘাটতি দেখা দিতে পারে। পাইলটিংয়ের মূল উদ্দেশ্যই হলো এসব সমস্যা চিহ্নিত করা। বাস্তবে কোনো ব্যবস্থাপনা কাজ না করলে সেটি দ্রুত সংশোধন করা হবে।

মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্ঘটনা ঘটার পর প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাম্বুলেন্স আসার আগেই যদি প্রশিক্ষিত স্থানীয় মানুষ আহত ব্যক্তিকে সঠিকভাবে প্রাথমিক সহায়তা দিতে পারেন এবং একই সময়ে কেন্দ্রীয় কল সেন্টারের মাধ্যমে নিকটস্থ অ্যাম্বুলেন্সকে ঘটনাস্থলে পাঠানো যায়, তাহলে পুরো উদ্ধার প্রক্রিয়াটি দ্রুত করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, ৬০টি অ্যাম্বুলেন্সের পাইলটিং সফল হলে এর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সেবাটি আরও বিস্তৃত করা হবে। পর্যায়ক্রমে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ করিডরগুলোকে এই ব্যবস্থার আওতায় এনে সারা দেশে অত্যাধুনিক বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে।

 

 





 

জাতীয়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

৩৫ বছর পর আজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৬৬.৩%, সরকারের সার্বিক কর্মকাণ্ডে ৫৪.৫%

মহেশখালী টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ

ঐতিহাসিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন, আগামীকাল ভোটগ্রহণ : সিইসি

একনেক সভায় ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

হামে আক্রান্ত ৬৫ শতাংশ শিশু পুষ্টিহীনতার শিকার: গবেষণা

হাম প্রতিরোধে টিকাই একমাত্র পথ : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় বিভাগের আরো খবর


1585646778.gif 1585646793.jpg 1585646805.gif

1615174445.gif

1761832476.jpg




Copyright © 2017-2026   |   Voice Asian - Asian Based News Portal
Contact: voiceasianinfo@gmail.com
   
Visitor Counter
Online23
Today3375
Yesterday5072
TOTAL7205869