ভয়েস এশিয়ান, ১৫ আগষ্ট, ২০২৬।। প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিকের জন্মদিন উপলক্ষে সারা দেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে বিএনপি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কর্মসূচির কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয় কিংবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হবে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে। সেখানে বেলা ১১টায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচি যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।
এছাড়াও জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী ২ দিনের মিলাদ ও দোয়া মাহফিল পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ঘোষণা অনুযায়ী, জন্মবার্ষিকীর দিন অর্থাৎ আগামী ১৫ আগস্ট শনিবার দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা ও মহানগরে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে। এর পরদিন ১৬ আগস্ট রবিবার সারাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
তার পারিবারিক নাম খালেদা খানম এবং ডাকনাম ছিল পুতুল। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীতে হলেও শৈশবের একটি সময় তিনি জলপাইগুড়িতে আত্মীয়ের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেন। পরে পরিবারসহ দিনাজপুরে বসবাস শুরু করেন। সেখানে মিশনারি স্কুল ও দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন তিনি।
১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালে তার নেতৃত্বে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের সময় জিয়াউর রহমান নিহত হলে বিএনপির নেতৃত্বে আসেন খালেদা জিয়া। এরপর ধীরে ধীরে দেশের রাজনীতিতে তার প্রভাব বাড়তে থাকে।
১৯৮৩ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে জোট গঠন করে তৎকালীন এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। দীর্ঘ আন্দোলনে তার নেতৃত্বের কারণে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান তিনি।
এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন খালেদা জিয়া। পরবর্তী সময়ে আরও দুই দফায় সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবনের শেষ পর্যায়ে মামলা, কারাবাস ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ সময় নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় খালেদা জিয়াকে। ওয়ান-ইলেভেনের পর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও তিনি কারাবন্দী ছিলেন। পরে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এরপর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। দেশে ও বিদেশে চিকিৎসাও নিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারপারসন ছিলেন খালেদা জিয়া।