| ঢাকা, বাংলাদেশ | শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |
1706751741.gif 1647622201.jpg

বিভাগ : প্রবাস তারিখ : ০৮-০২-২০২৪

মালয়েশিয়ায় চাকরির ফাঁদ, বেতনের অনিশ্চয়তায় ৭৩৩ বাংলাদেশি


  প্রবাস ডেস্ক


ভয়েস এশিয়ান, ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪।। চাকরির প্রস্তাব দিয়ে কর্মীদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে অমানবিক পরিস্থিতিতে ফেলেছে সে দেশের পেঙ্গেরাংয়ের একটি কোম্পানি। মূলত মুলিয়াঅন এনার্জি এসডিএন বিএইচডি নামের ওই কোম্পানিটি ভুয়া চাকরির প্রস্তাব দিয়ে সে দেশে কর্মী  নিয়েছে। পরবর্তীকালে মালয়েশিয়ার ওই অঞ্চলের শ্রম আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে অর্ধেক বেতন পরিশোধের শর্তে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে রাজি হয়েছে কোম্পানিটি।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) মালয়েশিয়ার শ্রম আদালত এই নির্দেশনা দেয়। গত বছরের অক্টোবর থেকে বেকার দিনযাপন করা এই কর্মীরা বাকি অর্ধেক বেতন কবে-নাগাদ পাবেন, সেই নিশ্চয়তা এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

মালয়েশিয়ার শ্রম আদালত জানিয়েছে, জোহর রাজ্যে সাত শতাধিক বাংলাদেশি কর্মীকে চাকরি দেওয়ার নামে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে ওই কোম্পানি। পরে আদালতে অভিযোগ করা হলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ওই কর্মীদের বকেয়া বেতনের অর্ধেক (প্রায় ১০ লাখ রিঙ্গিত বা ৩ লাখ মার্কিন ডলার) পরিশোধ করতে রাজি হয় মুলিয়াঅন এনার্জি এসডিএন বিএইচডি।

মালয়েশিয়ায় চাকরি না পাওয়া বাংলাদেশি ওই কর্মীরা জানান, তাদের গ্রুপটি গত ডিসেম্বর মাসে নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর থানায় অভিযোগ জানালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তাদের মধ্যে ১৭১ জনের একটি দল পেঙ্গেরাংয়ের একটি পুলিশ স্টেশনে অভিযোগ জানাতে জড়ো হয়েছিল। পরে স্থানীয় মানবাধিকার কর্মীদের সহায়তায় তারা শ্রম আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। কর্মীরা জানান, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সে দেশে যাওয়ার পর থেকেই কাজ না পেয়ে মানবেতর দিনযাপন করছেন তারা।

আদালতে বিরোধ নিষ্পত্তিকালে প্রতিষ্ঠানটি অর্ধেক বেতন পরিশোধ করতে রাজি হয়েছে। তবে বাকি বেতনের বিষয়ে ধোঁয়াশায় আছেন কর্মীরা।

জোহর বাহরু শ্রম আদালত সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে বলেছে, ৭৩৩ জন অভিযোগকারীকে মোট ১ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন রিঙ্গিত বেতন দাবির ৫০ শতাংশ পরিশোধের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে রাজি হয়েছে উভয় পক্ষ (নিয়োগকর্তা এবং কর্মচারী)। বকেয়া বেতন পরিশোধের পাশাপাশি আগামী ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব ভুক্তভোগীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে আদালতকে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এছাড়া এসব কর্মী যে গুরুতর আবাসন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, তা কাটিয়ে উঠতে তাদের একটি নতুন হোস্টেলে স্থানান্তর করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী কর্মীদের একজন মিজান বলেন, ‘গত অক্টোবরে আমরা মালয়েশিয়ায় আসি। কোম্পানির লোক আমাদের পাসপোর্ট নিয়ে যায়। তারপর থেকে আমাদের কোনও কাজ নেই। না খেয়ে ছিলাম বেশ কয়েক দিন। দেশ থেকে টাকা এনে কোনোমতে চলছিলাম। কাগজপত্র না থাকায় নভেম্বরের মাঝামাঝি আমাদের ১৭১ জনকে আটক করে পুলিশ। তারা নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে থানায় যাচ্ছিলেন। পথে পুলিশ তাদের কাগজপত্র না পেয়ে আটক করে নিয়ে যায়। ১৪ দিন তারা জেলে ছিলেন। আমরা এসব বিষয়ে হাইকমিশনকে জানাতে পারিনি। কারণ আমাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেবে। আমরা না পেরে শ্রম আদালতে অভিযোগ দায়ের করি।’

মিজান জানান, তিন দিন ধরে হোস্টেলের বিদ্যুৎ ও পানির লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। তবে আদালতের মতে, হোস্টেল অপারেটর বিদ্যুৎ ও পানির বিল পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে মৌলিক প্রয়োজনীয়তায় সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হোস্টেল অপারেটর ১০ হাজার রিঙ্গিতের বেশি ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করেননি, যার ফলে তেনাগা ন্যাশনাল বেরহাদ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। গত তিন দিন ধরে সিয়ারিকাত এয়ার জোহর বন্ধ করে দিয়েছে পানি সরবরাহ। কর্মীদের অস্বস্তি এড়াতে নিয়োগকর্তা অন্য একটি হোস্টেলের সঙ্গে ভাড়ার চুক্তি সই করেছেন। আলম কস্তুরী ওয়ার্কার্স হোস্টেলে তাদের রাখা হবে, যা বর্তমান হোস্টেল থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে।

কর্মীরা জানান, এতদিন দুর্বিষহ অবস্থায় থাকার পর আমরা ধোঁয়াশার মধ্যে আছি আদৌ কোনও টাকা পাবো কিনা। প্রতিশ্রুত অর্থ হাতে পাওয়ার পর আমরা বিশ্বাস করতে পারবো।

রেজাউল নামে একজন কর্মী জানান, ৫ লাখ টাকা খরচ করে মালয়েশিয়ায় এসে এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হবে, কল্পনাতেও চিন্তা করিনি। এরকম একটা জায়গায় কী কষ্টের দিন যে পার করেছি, তা কেবল আমরা জানি। যে স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম সব ভেঙে চুরমার। এখানে আমরা নরকের মধ্যে ছিলাম।’

বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার নিয়ে সে দেশে কাজ করা ব্রিটিশ শ্রম অধিকার কর্মী এন্ডি হল শ্রম আদালতের রায় নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘এই হাইপ্রোফাইল ‘পেঙ্গেরাং নির্যাতনের’ মামলাটির জন্য মালয়েশিয়ার বিচার ও আইন প্রয়োগকারী ব্যবস্থার মধ্যে একটি প্রতিরোধমূলক নিষ্পত্তি প্রয়োজন। যেখানে সরকার এবং বিচার বিভাগ এই সংঘবদ্ধ অপরাধ সিন্ডিকেটকে দমন করার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে, সেখানে মূলত আধুনিক দাসত্ব বা জোরপূর্বক শ্রমের মতো পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের পাচার করা হয়েছে। সরকারের সর্বশেষ যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা এই বিবৃতি অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নয়। এটি একটি হতাশাজনক নিষ্পত্তি।”

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র ও মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, তাদের মন্ত্রণালয় পেঙ্গেরাংয়ের মামলাটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখেছে এবং বিদেশি শ্রমিক শোষণের সঙ্গে জড়িত কোনও পক্ষের সঙ্গে আপস করবে না। মানবপাচারের বিরুদ্ধে বেশ কিছু আইনে নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে বলে তারা একমত পোষণ করেন।

এছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগের নতুন আবেদন থেকে নিয়োগ কর্তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। তাদের অবশিষ্ট অভিবাসী কর্মী কোটা এবং অনুমোদনের চিঠি বাতিল করা হবে। বিদেশি কর্মীদের বিদ্যমান ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে তাদের (নিয়োগ কর্তা) বাধা দেওয়া হবে।

 




 

প্রবাস

মালয়েশিয়ায় ৭৫ বাংলাদেশি আটক

সিঙ্গাপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

মালদ্বীপ থেকে বের করে দেওয়া হলো ৮৩ বাংলাদেশিকে

মালয়েশিয়ায় ৯৪ বাংলাদেশি আটক

বিএনপি নেতা কাইয়ুমকে দেশে পাঠাবে না মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ১০৮ অভিবাসী আটক

মালয়েশিয়ায় ২০৫ বাংলাদেশীসহ ৫৬১ অভিবাসী আটক

মালয়েশিয়ায় ২১ বাংলাদেশি উদ্ধার

বছরজুড়ে অবৈধপথে ইউরোপে ঢুকেছে বাংলাদেশিরা

মালয়েশিয়ায় ‘অভিবাসী শ্রমিক’ আতঙ্ক, পুলিশের অভিযান!

প্রবাস বিভাগের আরো খবর


1585646778.gif 1585646793.jpg 1585646805.gif

1615174445.gif

1689054383.gif




Copyright © 2017-2024   |   Voice Asian - Asian Based News Portal
Contact: voiceasianinfo@gmail.com

   
StatCOUNTER