| ঢাকা, বাংলাদেশ | বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২ |
1636004223.gif 1641004185.jpg

বিভাগ : প্রবাস তারিখ : ১৯-১২-২০২১

বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে বিজয়ের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন


  ভয়েস এশিয়ান ডেস্ক


ব্রাজিলে বাংলাদেশ দূতাবাসে বিজয়ের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন

ব্রাসিলিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস যথাযোগ্য মর্যাদায় উৎসবমুখর প্রাণবন্ত পরিবেশে বিজয়ের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন এবং বঙ্গবন্ধুর  জন্মশত বার্ষিকী- মুজিববর্ষের সমাপনী পালন করে। 

বিজয়ের ৫০তম বার্ষিকী বিশাল পরিসরে উদযাপনের পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতি থাকলেও বৈশ্বিক করোনা মহামারীর প্রেক্ষিতে পরিমিত পরিসরে  যথাযথ শ্রদ্ধা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে ব্রাজিলে বাংলাদেশ দূতাবাসে মহান বিজয় দিবস ২০২১ উদযাপন করা হয়। এ আয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশি ছাড়াও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্রাজিলিয়ান নাগরিক উপস্থিত ছিলেন।  

জাতীয় সঙ্গীতের সাথে শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সূচিত মহান বিজয় দিবস অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ শহিদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর তিনি সমাগত অতিথিবৃন্দ এবং দূতাবাস পরিবারের সকলকে সাথে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।

অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশের শুরুতে পবিত্র কোরান থেকে পাঠ এবং মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ, মহান ভাষা আন্দোলনসহ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদ এবং বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগষ্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডে নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল শহীদ-এর আত্মার মাগফেরাত এবং বাংলাদেশের ক্রমঅগ্রসরমান আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অব্যাহত অগ্রযাত্রা কামনা করে এবং বিদ্যমান করোনা ভাইরাস সৃষ্ট পরিস্থিতি থেকে বাংলাদেশসহ পুরো পৃথিবীর মানুষকে রক্ষার আহবান জানিয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

দুতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী প্রদত্ত বিশেষ বাণী পাঠ করেন। এরপর, বিজয় দিবসের তাৎপর্যকে প্রতিপাদ্য করে আয়োজিত মুক্ত আলোচনা পর্বে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিগণ স্বতস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ উৎসর্গকারী ত্রিশ লক্ষ শহিদ এবং ৭১-এ দেশজুড়ে গণহত্যা ও পাশবিক নির্যাতনের বেদনাময় ঘটনাপ্রবাহ স্মরণ করেন। পাশাপাশি বিশ্বসভায় বাংলাদেশের এই রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে বঙ্গবন্ধুর অবিস্মরনীয় অবদানের উপর আলোকপাত করেন। বক্তারা আর্থ- সামাজিক ক্ষেত্রে এবং আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্জনের উপর বিশেষ আলোকপাত করেন। দক্ষিণ আমেরিকার জনগণের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলতর করতে এবং বৈশ্বিক নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরার লক্ষ্যে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান। আলোচনা সভায় অন্যতম প্রধান আলোচক হিসেবে দূতাবাসের সামরিক উপদেষ্টা বঙ্গবন্ধুর জীবন, স্বাধীনতা অর্জনে তাঁর অসামান্য ভূমিকা এবং যুদ্ধ বিদ্ধস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলেন যে, বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন সত্ত্বা। আধুনিক সামরিক বাহিনী গঠনে জাতির জনকের দূরদর্শী নেতৃত্ত্বের অবদানের কথাও তিনি শ্রদ্ধাবনত চিত্ত্বে স্মরণ করেন।

শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স তাঁর বক্তব্যের শুরুতে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সালের মুক্তিসংগ্রামের ঘটনাক্রমে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ত্বের অবদান সবিস্তারে বর্ণনা করে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ উপহার দেবার জন্য তাঁকে কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ শহীদ, দুই লক্ষাধিক নারী মুক্তিযোদ্ধা ও চার জাতীয় নেতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তিনি সমবেত অতিথিবর্গকে বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। স্বাধীনতা-উত্তরকালে জাতির জনকের নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্রে জাতির জনকের শাহাদৎ বরণ ও তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কীভাবে বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে ইত্যাদি বিষয়ে বিশদ আলোকপাত করেন।

শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জাতির পিতার স্বপ্নের সুখী, সমৃদ্ধ, শোষণ ও বৈষম্যহীন ‘সোনার বাংলা’ গঠনে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিক অবদান রাখার আহ্বান জানান। উপস্থিত সকল বাংলাদেশী পিতা মাতাকে তাঁদের সন্তানদের বাংলা ভাষা, বাংলা সংস্কৃতি, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ অংশে শার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স উপস্থিত সকলকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পরিচালিত শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পরিশেষে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে উপস্থিত সকলকে আপ্যায়িত করার মধ্য দিয়ে আনন্দঘন এ অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে। 

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের আয়োজনে কানাডায় বিজয় দিবস উদযাপন

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের আয়োজনে কানাডার ক্যানবাংলা স্টুডিওতে বাংলাদেশের বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে মনোজ্ঞ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, কানাডার সভাপতি ড. মো. হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে আলোচনা পর্বে স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম। অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন সাবেক বাকসু ভিপি মো. ফাইজুল করিম, সাবেক বাকসু সদস্য কৃষিবিদ মো. গোলাম মোস্তফা, ড. নুরুন নাহার খানম শিরিন ও অন্টারিও আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল।

বক্তারা ৫০ বছরে বাংলাদেশের অর্জন, বিশেষ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্বারোপ করেন। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্বে বাংলাদেশ যে সমৃদ্ধির পথে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে তারও ভূয়সী প্রশংসা করেন। আলোচনা পর্বটি সঞ্চালন করেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, কানাডা'র সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনুপ সেনগুপ্ত। দ্বিতীয় পর্বে দর্শক মাতিয়ে রেখেছিলেন সংগীতশিল্পী তানভির আলম সজিব ও তবলায় রাজিব। 

কুয়েতে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালিত

কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শনিবার দূতাবাসের মাল্টিপারপাস হলে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। দিবসের তাৎপর্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশিকুজ্জামান।

অভিবাসী দিবসে এবারে প্রতিপাদ্য বিষয় ‘শতবর্ষে জাতির পিতা সুবর্ণে স্বাধীনতা, অভিবাসনে আনবো মর্যাদা ও নৈতিকতা’।

আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসে প্রবাসীরা মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। সভা সঞ্চালনা করেন জিহন ইসলাম। 

এতে শুরুতেই রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। বাণী পাঠ করেন যথাক্রমে কাউন্সেলর (শ্রম) আবুল হোসেন, কাউন্সেলর (পাসপোর্ট এবং ভিসা) ইকবাল আক্তার, প্রথম সচিব ও দূতালয় প্রধান নিয়াজ মোর্শেদ ও জাহাঙ্গীর আলম। 

আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে দ্বিতীয় বারের মতো ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে কুয়েত থেকে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স প্রেরণকারী তিনজনকে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করেন কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত। অনুষ্ঠানে অসংখ্য প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন। 

আনন্দমুখর পরিবেশে লিসবন দূতাবাসে বিজয় দিবস উদযাপিত

পর্তুগালের বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবনে যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দমুখর পরিবেশে স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে। 

বিজয়ের ৫০ বছর উপলক্ষে দূতাবাসে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন এবং রঙিন আলোকসজ্জায় দূতাবাসকে বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়। সন্ধায় দূতাবাস প্রাঙ্গন লাল সবুজের মোহনীয় আলোকচ্ছটায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠে। 

১৬ ডিসেম্বর সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গনে রাষ্ট্রদূত তারিক আহসান দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা করেন। পরবর্তীতে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক পরিচালিত “শপথ গ্রহণ” অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ধারণ করে একটি সুখী সমৃদ্ধ এবং অসাম্প্রদায়িক “সোনার বাংলা” গড়তে আত্মনিয়োগ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হোন। 

স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিজয় দিবস উদযাপনের দ্বিতীয় পর্বে দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, রাজনৈতিক দল ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন। দূতাবাসে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সিরামিক ম্যুরালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান শুরু হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারবর্গ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

আলোচনার পর্বের শুরুতে বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। 

মহান বিজয় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে “বিজয়ের ৫০ বছর” শীর্ষক আলোচনায় আগত অতিথিগণ বাঙালিদের জীবনে মহান বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিকক্ষেত্রসহ সকল ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। 

রাষ্ট্রদূত তারিক আহসান তার সমাপনী বক্তব্যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ বীরাঙ্গনা মা-বোন এবং জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। 

তিনি বলেন, একটি আধুনিক, জনমুখী, শোষণ এবং সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই আমাদের বিজয়ের সর্বোচ্চ অর্জন। 

তিনি আরো বলেন, জাতির পিতার যে আদর্শ ধারণ করে বাঙালি জাতি মুক্তি সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েছিল সেই একই আদর্শ ধারণ করে বাংলাদেশ আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে  অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করে চলেছে। বিজয়ের এই অগ্রযাত্রা আগামী ৫০ বছরে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে বিদেশের মাটিতে নিজেদের উন্নত আচরণ আর কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধিতে অবদান রাখার জন্য এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেবার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান তিনি।

আলোচনা পর্বের শেষে বিজয়ের কবিতা পাঠ করা হয় এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ৫০ বছরের অগ্রযাত্রার উপর ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

পরিশেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারবর্গ, জাতীয় চার নেতা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ কামনায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়।

মেক্সিকো সিটিতে নানা আয়োজনে বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন

মেক্সিকো সিটিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস যথাযোগ্য মর্যাদায় ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করেছে। দিবসটির প্রারম্ভে রাষ্ট্রদূত দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীতের মূর্ছনার সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এসময় মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের বিদেহী আত্মার শান্তি এবং দেশের সমৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরবর্তীতে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণীসমূহ পাঠ করা হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর উপর নির্মিত “বঙ্গবন্ধু বিশ্ববন্ধু” শীর্ষক তথ্যচিত্রটি অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়। 

এরপর বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রবাসী বাংলাদেশী এবং দূতাবাস কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে একটি উন্মুক্ত আলোচনার আয়োজন করা হয়, যেখানে আলোচকগণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত নেতৃত্ব, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ এবং বাংলাদেশের অগ্রগতির বিভিন্ন ইতিবাচক দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। এসময় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারে আগতদের আপ্যায়ন করা হয়।

রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম তার বক্তব্যে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির পিতা ও স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তাছাড়া, তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহিদসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দুই লক্ষ বীরাঙ্গণার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে বিদেশের মাটিতে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতে তিনি উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশীদের অনুরোধ জানান। এছাড়াও মেক্সিকোর সাথে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ উচ্চ শিক্ষা, তথ্য প্রযুক্তি,  কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাধিত অগ্রগতি সম্পর্কে আগতদের অবহিত করেন। বক্তব্য শেষে তিনি মুজিববর্ষ এবং মহান বিজয় দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকা থেকে নির্দেশিত শপথ বাক্য পাঠ করান এবং সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে দূতাবাসে আয়োজিত সকালের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

মহান বিজয় দিবসের প্রাক্কালে ১৫ ডিসেম্বর মেক্সিকো সিটিস্থ কাসা দোলা আমিস্তাদ (Casa de la Amistad) শিশু ক্যান্সার হাসপাতালে বঙ্গবন্ধু ফান্ড হতে ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুদের জন্য ১০,০০০ পেসোর একটি চেক রাষ্ট্রদূত হাসপাতালটির মহাপরিচালক ইঞ্জিনিয়ার লিওনার্দো আরানার নিকট হস্তান্তর করেন। এসময় দূতাবাসের কাউন্সিলর ও দূতালয় প্রধানও উপস্থিত ছিলেন। চেক হস্তান্তরকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং সেই সাথে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।  

এছাড়াও মহান বিজয় দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তী এবং মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে বাংলাদেশ দূতাবাস মেক্সিকোর ‘দারমেন অতেরো’ নামে একটি স্থানীয় ত্রৈমাসিক পত্রিকায় বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্য, ঐতিহ্য, ইতিহাস, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা, সম্ভাবনা, সাফল্য এবং বাংলাদেশ মেক্সিকোর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্র ইত্যাদি বিষয় নিয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করতে চলেছে যা ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে প্রকাশিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।  

মহান বিজয় দিবসের চেতনা এবং উদ্দীপনা স্থানীয় শিশুদের সাথে ভাগ করে নিতে এবং  বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে শিশুদের মাঝে পরিচয় করিয়ে দিতে Escuela Secundaria Don Benito Juarez বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ জন শিশুদের অংশগ্রহণে রাষ্ট্রদূত ‘বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু’-এর উপর একটি সচিত্র উপস্থাপনা পরিবেশন করেন। এ উপস্থাপনায় রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ইতিহাস ও স্বাধীনতা যুদ্ধের পাশাপাশি বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও কৃষ্টি তুলে ধরেন। বিদ্যালয়টির পক্ষ থেকে অধ্যক্ষ এরিক ওসিরিস লোপেজ এবং উপাধ্যক্ষ এলিজাবেথ গঞ্জালেজসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারী শিশুদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু লোগো সম্বলিত বিশেষ মগ ও নোটবুকসহ অন্যান্য উপহার সামগ্রী বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।

ইস্তাম্বুলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন

মহান বিজয় দিবসের ৫০ বছরে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর সমাপনী উদযাপন করেছে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, ইস্তাম্বুল। গত ১৭ই ডিসেম্বর তুরস্কের একটি পাঁচতারকা হোটেলে 'বাংলাদেশ নাইট' এর আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তুরস্কের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়িবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং প্রবাসী বাংলাদেশিসহ প্রায় দুশত অতিথি অংশগ্রহণ করেন।

স্বাগত বক্তব্যে কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যার দূরদর্শী নেতৃত্বে বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশ নামক দেশটির জন্ম হয়েছিল। তিনি আরো স্মরণ করেন, মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা।

কনসাল জেনারেল তুর্কি সহকর্মী ও বন্ধুগণকে আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশের এ উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় অংশীদার হতে। ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দু′দেশের সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব এখন অনেক শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত। এ সপ্তাহে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর তুরস্কের সফরের মধ্যদিয়ে এ সম্পর্ক আরো এক ধাপ এগিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সফরের সময় আংকারায় বঙ্গবন্ধুর নামে একটি পার্ক নামকরন করা হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধুর জ্যাদ্দেসিতে বঙ্গবন্ধুর একটি আবক্ষ ভাস্কর্য উন্মোচিত হয়েছে যা দুই দেশের মধ্যকার ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ককে আরো জোরদার করবে বলে, তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আগামী বছর সুবিধাজনক সময়ে তুরস্কের মহামান্য রাষ্ট্রপতি রেজেপ তাইপ এরদোয়ানের বাংলাদেশ সফরের মধ্যদিয়ে দু′দেশের সম্পর্ক নব উচ্চতা ও নতুন মাত্রা লাভ করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কনস্যুলেট ইস্তাম্বুলের উদ্যোগে ও শাকিল রেজা ইফতির পরিচালনায় নির্মিত তুরস্কে বঙ্গবন্ধু প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শন করা হয়।উল্লেখ্য, এটিই বঙ্গন্ধুর উপরে তুর্কি ভাষায় নির্মিত প্রথম প্রামাণ্যচিত্র যেখানে তুর্কির প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ, লেখক, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়িবৃন্দ, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তার ভাবনা ও অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেছেন । বঙ্গবন্ধুর ছবি নিয়ে আয়োজিত 'বঙ্গবন্ধুর ফটো প্রদর্শনী' দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পর্বে বাংলাদেশ ও তুর্কি শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয় যেখানে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে মূল আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশ থেকে আগত জনপ্রিয় চিত্রতারকা অনন্ত জলিল ও চিত্রনায়িকা বর্ষা, যাদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানের আনন্দের মাত্রা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। এ উদযাপনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য কেক কেটে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

বিজয় দিবস উপলক্ষে মালদ্বীপ আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা

বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৭ ডিসেম্বর (শুক্রবার) মালদ্বীপের রাজধানী মালের তিন তারকা হোটেল জেন-এর হলরুমের অডিটরিয়ামে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মালদ্বীপ শাখার উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ মালদ্বীপ শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম রিন্টুর সঞ্চালনায় সংগঠনের সভাপতি দুলাল মাদবরের সভাপতিত্বে  প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগ মালদ্বীপ শাখার প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ কমিউনিটি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মির সাইফুল ইসলাম মাস্টার।

বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংক অব মালদ্বীপের সাবেক সি ইউ সৈয়দ বারিক উল্লাহ, আওয়ামী লীগ মালদ্বীপ শাখার সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন ও প্রবাসী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলওয়াত শেষে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ মালদ্বীপ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এম কে আর শেখ কামাল, আনিচুর রহমান, সহ-সভাপতি ফয়েজুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি ছাদেক হাজী।

আলোচনা সভায় বক্তারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। সেই সাথে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যাদের মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ দ্রুত এগিয়ে চলেছে এবং তার নেতৃত্বেই অর্জিত হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।  পরে স্থানীয় নীল দরিয়া শিল্পী গোষ্ঠীর পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে নৈশ্যভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

পোর্তোয় বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন

যথাযথ মর্যাদা এবং বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পর্তুগালের বন্দর নগরী পোর্তোয় বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তোর আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। 

বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তোর আয়োজনে ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় পোর্তোর স্থায়ী শহীদ মিনারের পাদদেশে জাতীয় পতাকা এবং মুক্তিযোদ্ধে নিহত শহীদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিজয়ের ৫০ বছর অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। 

বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তোর সভাপতি শাহ আলম কাজল এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিমের পরিচালনায় শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মোশাররফ হোসেন কিরন সহ শাহ জামাল আজাদ, বেলাল হোসেন, সালাহউদ্দিন, জুয়েল পাইক, কফিল সাকিল, মনির আহমদ, আবুল কালাম আজাদ, আনিসুল হক রুবেল, মনির হোসেন, ইমন শাহ, মাহাদী হাসান, দেলোয়ার হোসেন, মোঃ বাবলু, আরিফ ইসলাম, পিন্টু প্রধান, দিদার, জাকির প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা মহান বিজয় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন এবং বাংলাদেশের বর্তমানে উন্নয়ন এবং আগামীতে দেশের অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার জন্য সকল প্রবাসী এক সাথে কাজ করার শপথ নেন।

ইতালিতে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত

ইতালির রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে। ইতালিতে কোভিড-১৯ অতিমারীর সংকটময় পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানটি হাইব্রিড মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। ইতালি, সার্বিয়া ও মন্টেনিগ্রোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শামীম আহসান সকাল ৯.৩০ ঘটিকায় দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা ও  কর্মচারীর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর এক মিনিট নীরবতা পালন করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। 

বিদেশি অতিথি, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব আয়োজন করা হয় দূতাবাসের সম্মেলন কক্ষে। পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ, দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রেরিত বাণী পাঠ এবং ‘স্বাধীনতা শব্দটি কি করে আমাদের হলো’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ছিলো অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি। আলোচনা অংশে বাংলাদেশের দু’জন অনারারি কনসালসহ অন্যান্য বিদেশি অতিথিবৃন্দ বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তীতে উষ্ণ অভিনন্দন জানান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন অভিযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু এবং সকল শহিদের প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বঙ্গবন্ধু ও শহিদদের লালিত স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেন। 

ঢাকাস্থ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগদান করে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জাতীয় পতাকা মুষ্টিবদ্ধ হাতে শপথ গ্রহণ করেন।    

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বঙ্গবন্ধুর সম্মোহনী নেতৃত্বই ছিলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের মূল চালিকা শক্তি। রাষ্ট্রদূত ২০২১ সালের বিশেষ তাৎপর্য তুলে ধরে উল্লেখ করেন যে ইতিহাসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে বাংলাদেশ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী, স্বাধীনতা ও মহান বিজয় দিবসের সুবর্ণ জয়ন্তী উদ্‌যাপন করছে। একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্যের জন্য বিশ্ব পরিমণ্ডলে ‘রোল মডেল’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিজয়ের এই মাসে এবং মুজিব বর্ষ উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর প্রধান কার্যালয়ে শেখ মুজিব-বাংলাদেশ কক্ষ স্থাপনের বিষয়ে বাংলাদেশ এবং FAO-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। মহান বিজয় দিবসের এই আনন্দঘন মুহূর্তে তিনি ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশীদের ঐক্যবদ্ধ সহাবস্থানের আহ্বান জানান। রাষ্ট্রদূত দূতাবাসের সেবা কার্যক্রমের মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রবাসীদের আন্তরিক সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেন। বর্তমান সরকারের প্রবাসী বান্ধব নীতির বিষয়ে উল্লেখ করে তিনি উন্নত সেবা নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে দূতাবাস কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের প্রতি আলোকপাত করেন। 

অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে, হাইব্রিড মাধ্যমে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ শিশু শিল্পীদের পরিবেশনায় দেশাত্মবোধক গান ও নাচের ধারণকৃত অংশ উপভোগ করেন। মিজ্‌ সুস্মিতা সুলতানার পরিচালনায় এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সঞ্চারী সংগীতায়ন’ এর শিক্ষার্থী দীপা পোদ্দার, দিয়া পোদ্দার, স্বস্তিকা রুপন্তি বণিক, পুনম শীল, মিথিলা দাস মেঘা ও সানি বণিক এর সপ্রতিভ পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবারের শহিদ সদস্যবৃন্দ এবং মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদের বিদেহী আত্মার প্রতি মাগফিরাত কামনা করে এবং দেশের উত্তরোত্তর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

মো. এরফানুল হক, কাউন্সেলর (শ্রম ও কল্যাণ) এবং মো. আশফাকুর রহমান, দ্বিতীয় সচিব এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে নেপলস্‌ ও কাতানিয়াতে নিযুক্ত বাংলাদেশ অনারারি কনসালগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রবাসী বাংলাদেশীগণ, ইতালি ও ইউরোপীয় গণমাধ্যমকর্মীগণ এবং দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। 

মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের বিজয় দিবস উদযাপন

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল করেছে মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগ। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুয়ালালামপুরের হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালের বলরুমে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ ও ১৫ আগস্টের সব শহিদ এবং জাতীয় চার নেতার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের সদস্য মো. হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক অহিদুর রহমান অহিদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত হোসেন পান্না।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম- আহ্বায়ক আলহাজ্ব কামরুজ্জামান কামাল। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন দাতো আকতার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, এ কামাল চৌধুরী, তাজকির আহমেদ, নাজমুল ইসলাম বাবুল, বিএম বাবুল হাসান, নূর মোহাম্মদ ভূঁইয়া, মোহা. আকতার, বাবলা মজুমদার, আব্দুল বাতেন, সাইফুল ইসলাম সিরাজ, জহিরুল ইসলাম জহির, মাসুদুল ইসলাম রনিসহ মালয়েশিয়া আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সভায় বক্তারা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বহির্বিশ্বে অপপ্রচারকারী বিএনপি ও জামাতের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। 

জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনে বিজয়ের ৫০ বছর

যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতর সংলগ্ন বাংলাদেশ মিশনে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর শুভক্ষণে এবারের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান দুটি পর্বে ভাগ করে উদযাপন করা হয়। প্রথম পর্ব শুরু হয় সকাল সাড়ে নয়টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন করে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী পাঠকৃত শপথ বাক্য অনুসরণ করে স্থায়ী প্রতিনিধির নেতৃত্বে মিশনের সকল স্তরের কর্মকর্তা কর্মচারি শপথ বাক্য পাঠ করেন।

দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা অনুষ্ঠান হয় সন্ধ্যে ছয়টায়। কোভিড-১৯ এর নতুন ধরণ ‘ওমিক্রণ’ এর প্রেক্ষিতে দূতাবাস ভবনস্থ বিল্ডিং কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় নির্দেশনা অনুযায়ী ভার্চুয়ালে আলোচনা পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারায় সম্পৃক্ত তরুন বাংলাদেশী-আমেরিকানসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার বাংলাদেশী নেতৃবৃন্দ।

মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্ম-উৎসর্গকারী বীর শহীদগণের স্মরণে একমিনিট নিরবতা পালন ও তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় আলোচনার প্রারম্ভে। দিবসটি উপলক্ষে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। 

এরপর স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। শুরুতেই তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতাসহ ১৫ আগস্টের শাহাদৎবরণকারী জাতির পিতার পরিবারের সকল সদস্য, জাতীয় চার নেতা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুইলাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনসহ সকল মুক্তিযোদ্ধার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। রাষ্ট্রদূত রাবাব বলেন, “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে রুপকল্প ২০২১, রুপকল্প ২০৪১ ও ডেল্টা পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এবছর নভেম্বর মাসে স্বল্পোন্নত দেশের ক্যাটাগরি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার জন্য আমরা জাতিসংঘের চুড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছি যা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের মর্যাদা ও সক্ষমতার স্বাক্ষর”।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ নেতৃস্থানীয় ভূমিকার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, আমরা এখন শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। ২০৩০ টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, বিশ্বশান্তি রক্ষা, শান্তি-বিনির্মাণ, দারিদ্র্য দূরীকরণ বিষয়ক আলোচনা ও নারীর ক্ষমতায়নসহ অসংখ্য বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ নেতৃত্বশীল ভূমিকা রেখে চলেছে মর্মে উল্লেখ করেন তিনি। স্থায়ী প্রতিনিধি আরও বলেন, “আমরা আজ বিশ্বের ৪১তম অর্থনীতির দেশ। আশা করা যায়, ২০৩৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশ বিশ্বের ২৫তম বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। কোভিড ব্যবস্থাপনা ও অব্যাহত অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশ্বের কাছে আজ  রোল মডেল বাংলাদেশ।

তুরস্কে বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

তুরস্কে যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান বিজয়ের ৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে বাংলাদেশে দূতাবাস, আঙ্কারা। সকালে রাষ্ট্রদূত মস্য়ূদ মান্নানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ  দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বঙ্গবন্ধুর আবক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দূতাবাসের ’বিজয় একাত্তর’ মিলনায়তনে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত ও মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনান রাষ্ট্রদূত ও মিশন উপ-প্রধান মো. রইস হাসান সরোয়ার। 

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয়াংশে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। আলোচনাপর্বে আংকারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব ল্যাংগোয়েজ, হিসটোরিক এন্ড জিওগ্রাফি, ইস্টার্ন ল্যাংগোয়েজ এন্ড লিটারেচর ডিপার্টমেন্ট এর প্রফেসর ড. মেরথাম দুনদার এবং বাসক্যানত ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. হালুক কারাদাগ বিজয় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে আবেগঘন বক্তব্য রাখেন। 

রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয়, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশের বিজয় অর্জন এবং তুরস্ক-বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যা কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ার বিস্তারিত বিবরণ উপস্থিত অতিথিদের সম্মুখে তুলে ধরেন। 

তিনি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃৃত্বে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশীদার হওয়ার জন্য সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার জন্য উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশী ও শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান। এরপর দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারবর্গ, শিশু এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ও পুরস্কার বিতরণের মধ্যে দিয়ে দিবসের কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটে। পরিশেষে, অনুষ্ঠানে আগত অতিথিবৃন্দ বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ গ্রহণ করেন।

পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে  বাংলাদেশ হাইকমিশন যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে মহান বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষে দূতালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতার প্রতিকৃতি ও অস্থায়ী জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, এক মিনিট নীরবতা পালন, বাণীপাঠ, আলোচনা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিশেষ মোনাজাত অনুঠিত হয়। বাংলাদেশ হাইকমিশনের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ এবং তাদের পরিবারবর্গ উৎসব আনন্দে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এ উপলক্ষে চ্যান্সারি প্রাঙ্গণ বিজয় দিবসের ব্যানার, পোস্টার ও রঙিন বেলুন দিয়ে সজ্জিত করা হয়। 

হাইকমিশনের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের  উপস্থিতিতে চ্যান্সারি প্রাঙ্গণে হাইকমিশনার মো. রুহুল আলম সিদ্দিকী আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। পতাকা উত্তোলনের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রমাণ আকৃতির প্রতিকৃতি ও অস্থায়ী জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে বঙ্গবন্ধু ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হাইকমিশনার ও হাইকমিশনে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী। 
 
হাইকমিশনারের সভাপতিত্বে বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এ আলোচনা পর্ব শুরু হয়। এরপর বঙ্গবন্ধু ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়।

হাইকমিশনার মো. রুহুল আলম সিদ্দিকী তার বক্তব্যে বলেন, এ বছর আনন্দঘন পরিবেশে আমরা উদযাপন করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী  ‘মুজিববর্ষ’ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী যা বাঙালির বিজয়োৎসবে যোগ করেছে অনন্য এক মাত্রা।  

তিনি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন বাঙ্গালি জাতির মুক্তির মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধের আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের। তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন জাতীয় চার নেতাকে। গভীর শ্রদ্ধা জানান বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বিদেশী বন্ধু, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য ও সকল স্তরের জনগণকে যারা এ বিজয় অর্জনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান রেখেছেন। সবশেষে তিনি বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর মাহেন্দ্রক্ষণে শোষণহীন, বঞ্চনাহীন, সমৃদ্ধ ও জ্ঞাননির্ভর জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মানে সকলকে যার যার অবস্থানে থেকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

আলোচনা পর্বের পর শিশু-কিশোরদের মধ্যে বিভিন্ন ইভেন্টে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শেষে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর হাইকমিশনার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অনুসরণে উপস্থিত সকলকে সুরর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের শপথ পাঠ করান। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের ও সকল শিশু-কিশোরদের মাঝে আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরন করা হয়। 

সবশেষে, জাতির পিতা ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের দেশীয় সুস্বাদু খাবার পরিবেশন  করা হয়।

গ্রিসে বিজয় দিবস উদযাপিত

যথাযথ মর্যাদা এবং বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গ্রিসে উদ্‌যাপিত হলো মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। ১৬ ডিসেম্বর সকালে গ্রিসের এথেন্সস্হ দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা হয়। এ সময় গ্রিসে বসবাসকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী এবং আঞ্চলিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোররা এবং দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও বাংলাদেশের শান্তি ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। 

পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত ও গীতা থেকে পাঠের মধ্য দিয়ে দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ২য় পর্ব শুরু হয় বিকেল ছয়টায়। এরপর, মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাৎবরণকারী সকল শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এ বছর মহান বিজয় দিবস উদ্‌যাপনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিলো স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের শপথ পাঠ। নতুন প্রজন্মসহ সর্বস্তরের জনগণকে জাতির পিতার আদর্শে উন্নত, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সোনার বাংলা গড়া এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে দূতাবাসে উপস্থিত সকলকে শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। এছাড়া, দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।

মহান বিজয় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্যের উপর বিশেষ আলোচনা পর্বে অংশ নেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আঞ্চলিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি, নারী নেতৃবৃন্দ, নতুন প্রজন্মের শিশু কিশোর এবং বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ। বক্তারা মহান বিজয় দিবসে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে বাংলাদেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দূতাবাসের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স মো. খালেদ তার বক্তব্যের শুরুতেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুমহান নেতৃত্ব এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি প্রবাসীদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রূপকল্প ২০৪১-এর লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়। 

সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

নয়াদিল্লিতে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন

বাংলাদেশ হাইকমিশন নয়া দিল্লি বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপযাপন করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে ছিল প্রাণের উৎসব। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে সকালে দূতাবাস চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার মো. নুরল ইসলাম। এ সময় দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ, বিমান বাংলাদেশের দিল্লিতে কর্মরত কর্মকর্তারা এবং দিল্লির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীরাও কর্মসূচিতেও অংশ নেন।

পতাকা উত্তোলনের পর দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু কর্ণারে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পাঞ্জলি দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু হল মিলনায়তনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনার সভার আয়োজন করা হয়। স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত বীর শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে ১ মিনিট নীরবতার মধ্য দিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।

রাষ্ট্রপতির বাণী শাবান মাহমুদ, মিনিস্টার (প্রেস), প্রধানমন্ত্রীর বাণী ড. এ. কে. এম আতিকুল হক, মিনিস্টার (বাণিজ্য), পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী মোহাম্মদ রাশেদুল আমীন, কাউন্সেলর (ইকনমিক) এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী আব্দুল ওয়াদুদ আকন্দ পাঠ করে শোনান। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বিজয় দিবসের আলোচনায় অংশ নেন সেলিম মো. জাহাঙ্গীর, মিনিস্টার (কনস্যুলার)। 

ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার মো. নুরল ইসলাম তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্বের কারণে স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দরবারে এক অনন্য উচ্চতায়। তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশ আত্মপ্রত্যয়ী বাংলাদেশ। ২০৪১ সালের মধ্যে একটি আধুনিক, সুশিক্ষিত, বিজ্ঞানমনস্ক ও উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিসিক্ত হওয়ার লক্ষ্যে আমরা জোর কদমে এগিয়ে যাচ্ছি।

পরে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের শহীদ অন্যান্য সদস্য এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের আত্মার শান্তি ও বাংলাদেশের সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিচালিত সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের শপথ অনুষ্ঠানে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ ও শপথবাক্য পাঠ করেন।

উৎসাহ-উদ্দীপনায় সিডনিতে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

যথাযথ মর্যাদা এবং বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সিডনিতে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মাসুদুল আলম খন্দকার ১৬ ডিসেম্বর সকালে সিডনিতে বাংলাদেশ হাউজ প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটির সূচনা করেন। এ সময় দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ও দূতাবাস পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত ও বাংলাদেশের শান্তি ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

সন্ধ্যায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা ও জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় সংগীত দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ ছাড়া মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। এরপর, এ বছরের মহান বিজয় দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে কনসাল জেনারেল এক স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।
 
কনসাল জেনারেল মাসুদুল আলম খন্দকার তার বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কনসাল জেনারেল বাংলাদেশের জাতি গঠনে তার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান চলাকালীন কনসাল জেনারেলের নেতৃত্বে উপস্থিত সকলে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক শপথ পাঠ অনুষ্ঠানে সিডনিস্থ কনস্যুলেট জেনারেল থেকে যোগদান করেন।  

আলোচনা শেষে বাংলাদেশের মুজিববর্ষ ও সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে কনস্যুলেট জেনারেল গত এক বছরে যেসব কার্যক্রম হাতে নিয়েছে তার ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

সভা শেষে স্থানীয় প্রবাসী শিল্পীদের অনবদ্য পরিবেশনায় এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে কনসাল জেনারেল উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

মালদ্বীপে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

মালদ্বীপে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গুরুত্বসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। 

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সকালে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে দূতাবাস প্রাঙ্গণে পতাকা উত্তোলন করেন সেখানে নিযুক্ত হাইকমিশনার মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। 

দ্বিতীয় পর্বে রাত্র ৮টায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন হাইকমিশনার মোহাম্মদ নাজমুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন দূতাবাসের প্রথম সচিব মোহাম্মদ সোহেল পারভেজ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলওয়াত করা হয়। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্ট শাহাদাৎ বরণকারী শহীদ ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। 

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রেরিত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণীসমূহ পাঠ করা হয়। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ওপর নির্মিত একটি প্রাম্যণ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়

রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। সেই সাথে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যাদের মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি অর্জিত হয়েছে। দেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হয়েছে এবং উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে। রূপকল্প-২০২১ এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা এবং রূপকল্প-২০৪১ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হবে ।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকী উদযাপনের বছরে বিজয় দিবস পালনে যোগ হয়েছে ভিন্ন মাত্রা ও তাৎপর্য। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ দ্রুত এগিয়ে চলেছে এবং তার নেতৃত্বেই অর্জিত হবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রেখে দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানান ।

পরে স্থানীয় নীল দরিয়া শিল্পী গোষ্ঠীর পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পর্ব শেষে নৈশ্যভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

চীনের কুনমিংয়ে নানা আয়োজনে বিজয় দিবস উদযাপন

চীনের কুনমিংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদযাপন করেছে। দিনটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের উপর তথ্যচিত্র প্রদর্শণ কর্মসূচি পালন করা হয়। 

এছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৯৭১ এর শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং দেশ ও জনগণের সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপ্রতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।
 
আলোচনা অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল এ এফ এম আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বারা দেশের প্রতিটি খাতে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্য - প্রযুক্তি, শিল্প ব্যবসা - বাণিজ্যসহ আর্থ - সামাজিক উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বুকে 'রোল মডেল'। 

কানাডায় যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপন

কানাডার ক্যালগেরিতে যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে মহান বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে বাংলাদেশ কানাডা অ্যাসোসিয়েশন অফ ক্যালগেরি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ উপলক্ষ্য বাংলাদেশ সেন্টারে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ভিডিও প্রদর্শনী, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আলোচনা সভায় অংশ নেন ক্যালগেরিতে বসবাসরত প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সুধীজনেরা। এ সময় ক্যালগেরিতে বসবাসরত প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধারা নতুন প্রজন্মের হাতে স্বাধীনতার আলোক প্রদীপ তুলে দেয়।

প্রচন্ড বৈরী আবহাওয়া কে উপেক্ষা করে এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কানাডা অ্যাসোসিয়েশন অফ ক্যালগেরির সভাপতি মো. রশিদ রিপন, সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত বসু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাসফিন হোসেন তপু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শুভ মজুমদার, সোশ্যাল সেক্রেটারি হাসান রহমান, এক্সিকিউটিভ সদস্য মোশাররফ হোসেন মাসুদ এবং এসোসিয়েশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বক্তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বাংলাদেশের জন্য এর তাৎপর্য তুলে ধরেন। 

বাংলাদেশে কানাডা অ্যাসোসিয়েশন অফ ক্যালগেরির সভাপতি মো. রশিদ রিপন তার বক্তব্যে বলেন, সত্যিই আমরা গর্বিত যে সুদূর প্রবাসে থেকেও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করতে পারছি। আমাদের নতুন প্রজন্মকে স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানানোর দায়িত্ব আমাদের। বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি।

বাংলাদেশ কানাডা অ্যাসোসিয়েশন অফ ক্যালগেরির সাধারণ সম্পাদক জয়ন্ত বসু বলেন, স্বাধীনতার লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি। নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানে না মুক্তিযুদ্ধ কি, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধারার জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ কানাডা অ্যাসোসিয়েশন অফ ক্যালগেরির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শুভ মজুমদার বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে যখন দেখি মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানানো হচ্ছে গর্বে তখন বুকটা ভরে যায়। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আমরা যেন প্রবাসে থেকেও ভুলে না যাই। আর তাইতো নতুন প্রজন্মকে এই জন্য এগিয়ে আসতে হবে। উল্লেখ্য কানাডার অন্যান্য প্রদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস পালিত হয়েছে।

ভিয়েনায় মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

ভিয়েনাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থায়ী মিশন যথাযোগ্য মর্যাদায় নানাবিধ কর্মসূচির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করেছে। সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে অস্ট্রিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে তিনি দূতাবাসের অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।  

অস্ট্রিয়ায় করোনা পরিস্থিতিতে অস্ট্রিয়া সরকার কর্তৃক আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও নির্দেশনা মেনে দূতাবাস কর্তৃক বিকালে মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে একটি অনলাইন আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। প্রথমেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর পরিবারের সকল শহীদ, জাতীয় চার নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের সম্মানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ ও প্রচার করা হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি ও স্লোভেনিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিগণ অনলাইনে বিজয় দিবসের তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ আলোচনায় যোগদান করেন।   

মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষ্যে বিশেষ আলোচনায় বক্তাগণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তাঁরা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতার দূরদর্শী নেতৃত্ব, দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তি সংগ্রাম, স্বাধীনতা-উত্তর দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর অবদান ও স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক গৃহীত দূরদর্শী নানা নীতি সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেন। তাঁরা বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁরা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মনিরপেক্ষতা অক্ষুন্ন রাখা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঠিক বাস্তবায়নের উপর আলোকপাত করেন।  

রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি তাঁর বক্তব্যে জাতির পিতা, মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ, সম্ভ্রমহারা মা-বোন ও নয় মাসব্যাপী যুদ্ধে ত্যাগস্বীকারকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনবদ্য অবদান তুলে ধরেন। তিনি বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে করোনা মহামারীর মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন। 

আলোচনা সভা শেষে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সকল শহীদ, জাতীয় চার নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের অব্যাহত শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

কুয়েতে বিজয় দিবস উদযাপিত

দেশ বিদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, কুয়েত বাংলাদেশের সাথে মিল রেখে ১৬ ডিসেম্বর মধ্যরাত ১২টা এক মিনিটে জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বিজয় দিবসের সূচনা করে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংবাদিকদের মাঝে কটি বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, কুয়েত।

প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন সরকার সুমন এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আ. হ. জুবেদ এর সঞ্চালনায় ১৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, কুয়েত এর অস্থায়ী কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় বাঙ্গালি জাতির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ দিবস ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত সকল শহীদ এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। 

মহান এই দিবসের উপর আলোচনা করেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশ সঙ্গীত একাডেমির সভাপতি মানিক মোল্লা, বাংলাদেশ ফ্যামেলি ফোরামের সভাপতি আবদুল হাই, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ প্রবাসী ফুটবল ফেডারেশন, কুয়েত এর সভাপতি জাহিদুর রহমান, বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি জালাল উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হেবজু, প্রচার সম্পাদক আলাল উদ্দিন, ক্রিড়া সম্পাদক জসিম উদ্দিন, মহিলা সম্পাদিকা নাসরিন আকতার মৌসুমী প্রমূখ। 

আলোচনা সভা ও কবিতা আবৃত্তি শেষে প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হেবজুর সৌজন্যে সাংবাদিকদের মাঝে কটি, প্রেসক্লাবের আইডি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন অতিথিবৃন্দ। 

ক্যানবেরায় বিজয় দিবসে অন্যরকম আয়োজন

অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে ছিল ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কমনওয়েলথ ব্রিজের দু’পাশে বৃহস্পতিবার সকালে প্রদর্শন করা হলো ৩২টি জাতীয় পতাকা ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বিশেষ ব্যানার। জাতীয় পতাকা ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই ব্যানার সপ্তাহব্যাপী প্রদর্শন করা হবে।

বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুফিউর রহমান, মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন পেশার দেড় শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন।

এসময় বাংলাদেশের হাইকমিশনার সুফিউর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়া গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার (Key Partner) হিসেবে বিবেচনা করে। স্বাধীনতার চেতনা ও লক্ষ্য অর্জনে অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল এবং উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে দৃঢ় পদক্ষেপে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে।

সুফিউর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছরে সামাজিক ও অথনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় এগিয়ে। এতে উন্নত বাংলাদেশের বিনির্মাণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ও পদক্ষেপের সঠিকতা প্রমাণিত হয়েছে।

কমনওয়েলথ সড়কসংলগ্ন বেরিন ড্রাইভে আয়োজিত প্রাত:কালীন সমাবেশ উৎসবমুখর হয় হাইকমিশন ও  প্রবাসী বাংলাদেশিদের পদচারণায়। এসময় মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। ক্যানবেরাস্থ প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাংস্কৃতিক সংগঠন ধ্রুপদ ও জলসা এবং বাংলাদেশ হাইকমিশন পরিবারের সদস্যরা সমবেত জাতীয় সঙ্গীত ও দেশাত্ববোধক সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

পরে বাংলাদেশ হাইকমিশন চত্বরে হাইকমিশনার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এসময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যবৃন্দ এবং মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এছাড়া মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।

সন্ধ্যায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কয়েকজন খ্যাতনামা সংগীত শিল্পী দেশাত্ববোধক গান পরিবেশন করেন। এছাড়া কবিতা ও নৃত্য পরিবেশন করা করা হয়। আলোচকগণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ও স্বদেশ বিনির্মাণে জাতির পিতার অবদান এবং  বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরন্তর প্রচেষ্টার বিষয়ে আলোকপাত করেন। 

এসময় বাংলাদেশের হাইকমিশনার সুফিউর রহমান বাংলাদেশের গত দশকের ব্যাপক উন্নয়ন অগ্রযাত্রার বিষয় তুলে ধরে স্বাধীনতার চেতনা ও লক্ষ্য অর্জনে সাম্য, মানবিকতা ও সামাজিক ন্যায় বিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এবিষয়ে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতার ওপরও জোর দেন হাইকমিশনার।

সিঙ্গাপুরে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সিঙ্গাপুর বিজনেস চেম্বারের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিঙ্গাপুরে মোস্তফা প্লাজায় একটি রেস্টুরেন্টে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৮টায় বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অফ সিঙ্গাপুরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এই আলোচনা সভা ও বিজয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠান।

সিঙ্গাপুর বিজনেস চেম্বারের সভাপতি প্রফেসর ড. এম এ রহিমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাই কমিশনের কাউন্সিলর আতাউর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাইকমিশনের কাউন্সিল তাজুল ইসলাম। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বিজনেস চেম্বার সভাপতি প্রফেসর ড. এম এ রহীমের নির্দশনায় এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হাসান এবং আমান উল্লা আমান, আসাদ মামুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযুদ্ধা খোরশেদ আলম, বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বারের সাবেক সভাপতি মির্জা গোলাম সবুর, সিঙ্গাপুর বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি জহিরুল ইসলাম এবং বিজনেস চেম্বারের এবং এস বি এস এর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বিজয় দিবসের গুরুত্ব এবং যাদের আত্মত্যাগে স্বাধীন বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে সকলের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। অনুষ্ঠান শেষ সকলের জন্য রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

টোকিওতে বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত

টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস যথাযথ মর্যাদায় বিজয় দিবসের ৫০ বছর বা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গনে দিনের কার্যক্রম শুরু হয় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। পতাকা উত্তোলন করেন জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমদ। পরে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।    

দূতাবাসের তৃতীয় তলায় স্থাপিত বঙ্গবন্ধু কর্নারে বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপন এ বছরের বিজয় দিবস উদযাপনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। 

উপস্থিত অতিথি ও দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে ভাস্কর্যটি উম্মোচন করেন রাষ্ট্রদূত শাহাবুদ্দিন আহমদ। দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়। এছাড়া মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়।       

পরে অনুষ্ঠিত আলোচনায় রাষ্ট্রদূত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে নিহত তার পরিবারের সদস্যদের, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং সম্ভ্রম হারানো সকল বীর মা-বোনদের। তিনি জাপান প্রবাসীসহ সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানান।   

এ সময় রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরলস পরিশ্রম ও প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি আজ সমগ্র বিশ্বে স্বীকৃত। করোনাভাইরাসের মহামারির সঙ্কট মোকাবিলা করেও বাংলাদেশে আশাব্যঞ্জক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তিনি উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার এবং বাংলাদেশের মর্যাদা অটুট রাখার আহ্বান জানান।  

আলোচনা পর্বে জাপানের সংসদ সদস্য ও ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান মিনোরু কিউচি বলেন, “আমি বাংলাদেশে গিয়েছি এবং সেখানে উন্নয়ন দেখে আমি মুগ্ধ”। 

এতে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আবক্ষ ভাস্কর্যের শিল্পী ড. ওতসুবো ওসামু, সাবেক রাষ্ট্রদূত মাতসুহিরু হরিগুচি, জাপান বাংলাদেশ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসাতো ওয়াতানাবে, টোকিও সেক্রেড হার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাসাকি ওহাসি, টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর কিওকো নিওয়া। 

বক্তারা দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক ও বাংলাদেশের উন্নয়ন তুলে ধরেন এবং আশা প্রকাশ করেন ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হবে আরো উন্নত ও আধুনিক। 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের পরম বন্ধু তাকাশি হায়াকাওয়ার পুত্র ওসামু হায়াকাওয়া। এছাড়া উম্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন জাপান প্রবাসী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। মহান মুক্তিযুদ্ধের উপর ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

এছাড়া সন্ধ্যায় বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর শপথ বাক্য পাঠের সাথে দূতাবাস পরিবারের সদস্যগণও অনলাইনে সরাসরি শপথ গ্রহণ করেন। পরে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয় এবং বিজয় দিবসের কেক কাটা হয়।  

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে বিজয় দিবস উদযাপন

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। মালয়েশিয়া সরকারের করোনা বিধিনিষেধ মেনে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়।

এসময় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার। পতাকা উত্তোলন শেষে বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এরপর দূতাবাসের হলরুমে শুরু হয় আলোচনা সভা।

রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্বে ও দূতালয় প্রধান রুহুল আমিনের সঞ্চালনায় সভায় যথাক্রমে রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করেন কাউন্সিলর শ্রম মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন কাউন্সিলর শ্রম-২-এর মো. হেদায়েতুল ইসলাম মন্ডল, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন কাউন্সিলর বাণিজ্যিক মো. রাজিবুল আহসান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন, ২য় সচিব মিস রেহেনা পারভীন। এসময় আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, মহান বিজয় দিবস জাতীয় জীবনে এক অনন্য গৌরবময় দিন। বিজয়ের এই মহান দিনে সেইসব অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধা জানাই, যারা দেশের স্বাধীনতা অর্জনে জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধাচিত্তে স্মরণ করেন। সেইসাথে জাতীয় চার নেতাসহ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শ্রদ্ধা জানান।

বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের বিজয় অর্জনের ইতিহাস শুধু ১৯৭১ সালে সীমাবদ্ধ নয়। ইস্পাত কঠিন ঐক্যে দৃঢ় জাতির দীর্ঘ সংগ্রাম আর ত্যাগের সুমহান ফসল এ বিজয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে ভেদাভেদ ভুলে সকলকে একযোগে কাজ করাও আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, প্রবাসীদের নিয়েই আমার কাজ। চলমান মহামারি সময়ে দূতাবাস থেকে শত প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রবাসীদের মাঝে দুই লাখ ২৫ হাজার পাসপোর্ট বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পোস্ট অফিসের মাধ্যমেই দুই লাখ পাসপোর্ট বিতরণ করা হয়। দূতাবাস সবসময় প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া কোনো কাজ সম্ভব নয়। সারাবিশ্বে পরিশ্রমী জাতি হিসেবে বাংলাদেশিদের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।

সাধারণ শ্রমিকদের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রবাসীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার বলেন, শ্রমিকরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি খেয়াল রাখার দায়িত্ব যেমন সরকারের, তেমনি সবার ওপরই কিছু না কিছু দায়িত্ব বর্তায়।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার খোরশেদ আলম খাস্তগীর, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, কমডোর মোস্তাক আহমেদ, কাউন্সিলর কন্স্যুলার জি এম রাসেল রানা, পাসপোর্ট ও ভিসা শাখার ফার্স্ট সেক্রেটারি মিয়া মোহাম্মদ কিয়ামুদ্দিন, দ্বিতীয় সচিব শ্রম ফরিদ আহমদসহ দূতাবাসের কর্মকতা-কর্মচারীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। 

 





 

প্রবাস

বিডিচ্যামের মেয়াদোত্তীর্ণ ম্যানেজমেন্ট কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন পাঁচ জন

মালয়েশিয়ায় বৈধতার সুযোগ রাত পেরোলেই শেষ

বাংলাদেশসহ ৩২ দেশের ৭০ হাজার শ্রমিক নেবে ইতালি

কর্মী নিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন

লাল-সবুজের ব‌র্ণিল সাজে লন্ডনের টাওয়ার ব্রিজ

সিঙ্গাপুরে স্টিলবার চাপা পড়ে বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত

মালদ্বীপে ‘সুদিনের অপেক্ষায়’ বাংলাদেশি কর্মীরা

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হলো মৈত্রী দিবসের বিশেষ অনুষ্ঠান

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৫৭ প্রবাসী বাংলাদেশি ‘সিআইপি’ নির্বাচিত

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ১২৯ অভিবাসী আটক

প্রবাস বিভাগের আরো খবর


1585646778.gif 1585646793.jpg 1585646805.gif

1615174445.gif

1629015305.png




Copyright © 2017-2022   |   Voice Asian - Asian Based News Portal
Contact: voiceasianinfo@gmail.com

   
StatCOUNTER