| ঢাকা, বাংলাদেশ | মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১ |
1636004223.gif 1635995700.jpg

বিভাগ : অর্থ-বাণিজ্য তারিখ : ২৩-১১-২০২১

মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ছে


  ভয়েস এশিয়ান ডেস্ক


ভয়েস এশিয়ান, ২৩ নভেম্বর, ২০২১।। কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে ১২শ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ছে। সাত বছর আগে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে এরই মধ্যে প্রায় অর্ধেক কাজ হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি মাতারবাড়ীতে সমুদ্র বন্দরের জন্য সহায়ক অবকাঠামোও তৈরি হবে।

২০১৫ সালের মাঝামাঝি মাতারবাড়ীতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। অর্ধযুগ পর এ প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫১ হাজার হাজার ৮৫৪ কোটি টাকা করার সংশোধনী প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ব্যয় বৃদ্ধির হার ৪৪ দশমিক ১০ শতাংশ।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পটি অনুমোদনের পর পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ডিটেইল ডিজাইন করে। সে অনুযায়ী খরচ বেড়েছে প্ল্যান্ট ও জেটির ক্ষেত্রে। তা ছাড়া মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দরের উপযোগী কিছু অবকাঠামোর জন্যও বাড়তি ব্যয় হবে। বাড়তি কাজের জন্য বাড়তি সময়ও লাগবে।

নতুন প্রস্তাবে চ্যানেল, জেটি, ভূমি উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সিভিল কার্যক্রম, বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, পরামর্শক, ভ্যাট-আইটি ও আমদানি শুল্ক, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন ও টাউনশিপ নির্মাণেও বাড়তি ব্যয়ের প্রস্তাব করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

গত সাত বছরে এ পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ হয়েছে ৪৪ দশমিক ৫০ শতাংশ। ৪৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পটি সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত (ফাস্ট ট্র্যাক) বা মেগা প্রকল্পের একটি। কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিতে। এতে তুলনামূলক কম কয়লার প্রয়োজন হবে, ফলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডও নির্গত হবে কম। বায়ুদূষণ ও পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব কম পড়বে

বিদ্যুৎকেন্দ্রের নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমাণ রোধে লোরেট বার্নার স্থাপন এবং সালফার-ডাই অক্সাইড রোধে সাগরের পানিতে ডি-সালফারাইজেশন মেথড ব্যবহার করা হবে। অ্যাশ রোধ বা কমানোর জন্য ইলেকট্রোস্ট্যাটিক প্রিসিপিটেটর ব্যবহার করা হবে।

এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাব-বিটুমিনাস কয়লা ব্যবহার করা হবে। পরিবেশ দূষণ রোধে অস্ট্রেলিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৪ হাজার ৭০০ কেজি স্ট্যান্ডার্ডে প্রয়োজনীয় পরিমাণ কয়লা আমদানি করা হবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিপিজিসিবিএল) অধীনে নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি নির্মাণে জাপানের তিনটি প্রতিষ্ঠানের একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি করে সিপিজিসিবিএল।

বাস্তবায়নকারী সিপিজিসিবিএল বলছে, এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি স্টিম টারবাইন, সার্কুলেটিং কুলিং ওয়াটার স্টেশন স্থাপন, ২৭৫ মিটার উচ্চতার চিমনি ও পানি শোধন ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি টাউনশিপ নির্মাণ, গ্রাম বিদ্যুতায়ন এবং পল্লী বিদ্যুতায়ন কাজের আওতায় চকোরিয়া-মাতারবাড়ী ১৩২ কেভি ট্রান্সমিশন লাইন নির্মাণ ও ১৩২/৩৩ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সাবস্টেশন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। নির্মাণ করা হবে অ্যাশ ডিসপোজাল এরিয়া এবং বাফার জোন।

সিপিজিসিবিএল বলছে, এ প্রকল্পে পোর্ট ও জেটি নির্মাণ প্রক্রিয়া সবচেয়ে দৃশ্যমান। সমুদ্রগামী বিভিন্ন জাহাজ থেকে প্রকল্পের মালামাল খালাসে ডিসেম্বর থেকেই নবনির্মিত একটি স্থায়ী জেটি ব্যবহার করা হচ্ছে। আরেকটি জেটি নির্মাণকাজ চলমান।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এ প্রকল্পে ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা আনার জন্য একটি বন্দর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যা দেশের আধুনিক সমুদ্রবন্দর হিসেবেও গড়ে তোলা হবে। কয়লা আমদানির জন্য নদীতে ৭ কিলোমিটার নৌ চ্যানেল করা হবে। পাশাপাশি কয়লা ওঠানামার জন্য নির্মাণ করা হবে জেটি। ৫৯ ফুট গভীর এ বন্দরে ৮০ হাজার টন ধারণ ক্ষমতার জাহাজ ভিড়তে পারবে। কয়লা আমদানির পর তা সংরক্ষণের জন্য বানানো হবে কোল ইয়ার্ড।

পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য (সচিব) শরিফা খান বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি মানসম্মত, নির্ভরযোগ্য ও জ্বালানি সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভূমিকা রাখবে। এতে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সরকার মাতারবাড়ীকে বিদ্যুৎ হাব হিসাবে তৈরি করতে চায়। এখানে মোট আটটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপেই আরও তিনটি কয়লা বিদুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এরই মধ্যে সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। গত বছর এই দুই দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করা হয়েছে। এদিকে এলএনজি আমদানির জন্য এলএনজি টার্মিনাল করারও পরিকল্পনা আছে সরকারের।

 

 





 

অর্থ-বাণিজ্য

বাংলাদেশে দেড় বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা সৌদি কোম্পানির

বিপুল বিদেশি বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ

ইউরোপে নতুন কোভিড নিষেধাজ্ঞা, অর্ডার কমার শঙ্কায় পোশাক রপ্তানিকারকরা

প্রতারিত ক্রেতারা হাজার কোটি টাকার প্লট ও ফ্ল্যাট কিনে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে

ওমিক্রন উদ্বেগে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সম্মেলন স্থগিত

সবজির দাম কমেছে, বেড়েছে আলুর

জ্বালানি তেলের দাম ১৫ টাকা বাড়ানো ঠিক হয়নি: এফবিসিসিআই

ঢাকায় ২৮ ও ২৯ নভেম্বর বিনিয়োগ সম্মেলন

সিঙ্গাপুর, জাপান ও কানাডার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে

থাইল্যান্ডে বাংলাদেশী পণ্যের প্রচার করবে থাই দূতাবাস: রাষ্ট্রদূত

অর্থ-বাণিজ্য বিভাগের আরো খবর


1585646778.gif 1585646793.jpg 1585646805.gif

1615174445.gif

1629015305.png




Copyright © 2017-2021   |   Voice Asian - Asian Based News Portal
Contact: voiceasianinfo@gmail.com

   
StatCOUNTER