| ঢাকা, বাংলাদেশ | মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১ |
1636004223.gif 1635995700.jpg

বিভাগ : অর্থ-বাণিজ্য তারিখ : ২২-১১-২০২১

অর্থনীতির চাকা সচল, ব্যাংকে এখন নগদ টাকার টান


  ভয়েস এশিয়ান ডেস্ক


ভয়েস এশিয়ান, ২২ নভেম্বর, ২০২১।। বিনিয়োগ নেই, এমনকি ট্রেজারি বিলবন্ডেও খাটানোর সুযোগ নেই- গত জুনে অলস এমন ৬২ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক খাতে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছিল। কারণ এর বিপরীতে আয় না হলেও ব্যাংকগুলোকে আমানতের বিপরীতে সুদ ঠিকই দিয়ে যেতে হচ্ছিল।

তিন মাস পর সেপ্টেম্বর শেষে চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন। অলস টাকা সেপ্টেম্বর শেষে ২৭ হাজার কোটি কমে দাঁড়ায় ৩৫ হাজার কোটি। আরও দুই মাস পর এই অঙ্কটা আরও কমে এসেছে বলে জানাচ্ছেন ব্যাংকাররা। তবে চূড়ান্ত হিসাবটা এখনও দিতে পারছেন না তারা।

করোনার বিধিনিষেধ শিথিল হতে শুরু করে আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে আর এরপর থেকে দেশের অর্থনীতির জং ধরা চাকা ঘুরতে শুরু করে। হাত গুটিয়ে রাখা বিনিয়োগকারীরা অর্থায়নের জন্য ব্যাংকে আসতে থাকে। এর ফলে ব্যাংকে অলস আর অতিরিক্ত তারল্য দুটোই কমে আসছে।

টাকার চাহিদা বাড়ছে, এ কারণে বাড়ছে ব্যাংকের সুদহার। করোনার সময় ঋণ দিতে অপেক্ষায় থাকা ব্যাংকগুলো ৬ থেকে সাড়ে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ দিলেও এখন বেঁধে দেয়া সর্বনিম্ন সুদ ৯ শতাংশের নিচে দিতে চাইছে না।

মাস কয়েক মাসেও কলমানিতে টাকার কোনো চাহিদা ছিল না। এখন ৪ শতাংশের ওপরে সুদে টাকা ধার করতে হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে। এতে এটাই স্পষ্ট হয় যে, অনেক ব্যাংকের হাতে উদ্বৃত্ত টাকা আর নেই।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তাহমিনা আহমেদ বানী। উৎপাদন করেন বাহারি কেক। নিজস্ব স্বকীয়তায় বাজারে অবস্থান তৈরি করাও তার লক্ষ্য।

ফেসবুক পেজে বিভিন্ন কেকের ছবি দেয়ার ফলে চাহিদাও বাড়ে। তিনটি আউলেট চালু করে ব্যবসা আরও প্রসারের স্বপ্ন দেখেন, কিন্তু করোনা মহামারিতে ভেঙে যায় স্বপ্ন। ঘুরে দাঁড়াতে বাধা হয়ে সামনে আসে আর্থিক সংকট। দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তখন অর্থ নিয়ে এগিয়ে আসে না কোনো ব্যাংক। ফলে থমকে যায় সবকিছু।

তবে এখন আবার তার ঋণ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে ব্যাংক।

বানীস ক্রিয়েশনের স্বত্বাধিকারী তাহমিনা আহমেদ বানী বলেন, ‘করোনার শুরুতে অনেক বড় বড় বুকিং ছিল সেগুলো বাতিল হয়ে যায়। করোনার কারণে গ্রিনরোড ও পান্থপথ এ দুইটি আউটলেট বন্ধ করতে হয়, কিন্তু তখন ঋণ চাইলে ব্যাংকগুলো সহায়তা করেনি। ব্যাংকের কাছে আমি বিশ্বস্ত থাকলেও ওই সময়ে তাদের অনেকেই চেনেনি। এখন সেই মেঘ কাটছে। ব্যাংকগুলো ঋণ আবেদন গ্রহণ করছে, ঋণ দেবার প্রক্রিয়াও সহজ করা হয়েছে।’

এই নারী উদ্যোক্তার মতোই ক্ষুদ্র এবং মাঝারি উদ্যোক্তারা এখন স্বপ্ন দেখছেন। অর্থায়ন নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলো ঋণ কার্যক্রম বেগবান করেছে।

করোনার ধাক্কায় দেশে বিনিয়োগের যে খরা তৈরি হয়েছিল, তা কাটতে শুরু করেছে। ব্যাংক ব্যবস্থায় ঋণের জন্য আবেদন বাড়ছে। বেড়েছে বিতরণও। ফলে ব্যাংকে যে অতিরিক্ত তারল্যের পাহাড় জমেছিল, তা ছোট হতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ প্রতিবেদন বলছে, বছরের তৃতীয় প্রান্তিক শেষে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১২ লাখ ১০ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। আগের মাস আগস্টে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা।

ব্যাংকাররা আশা করছেন, ঋণ বিতরণ আরও বাড়বে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানার অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে ঋণের চাহিদা বেড়েছে। করোনার কারণে ঋণের চাহিদা কম ছিল। তখন কোনো কোনো ক্ষেত্রে করপোরেট ঋণ ৬ থেকে সাড়ে ৬ শতাংশে দেয়া হয়েছে, কিন্তু এখন ঋণের চাহিদা বেড়েছে। ফলে ৯ শতাংশের কম সুদে ঋণে এখন ঋণ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

এবি ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর তারিক আফজাল বলেন, ‘সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ায় বেসরকারি ঋণে চাহিদা তৈরি হয়েছে। ব্যক্তি বিনিয়োগে খরা কাটছে। ব্যাংকগুলো এখন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে ঋণ বিতরণে আগের থেকে বেশি মনোযোগী। সামনের দিনে ঋণে গতি ফিরবে।’

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমদানি বেড়ে যাওয়ায় ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঋণের চাহিদাও কিছুটা বেড়েছে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরতে শুরু করেছে। সামনে বেসরকারি খাতেও ঋণ প্রবাহ আরও বাড়বে। তবে ব্যাংকগুলোর দেখে শুনে ভালো গ্রাহকদের ঋণ দেয়া উচিত। কারণ, ঋণ খেলাপিদের পুনরায় ঋণ দিলে সেটা অর্থনীতির জন্য ভালো হবে না।’

বেসরকারি ঋণ বেড়েছে

২০২০ সালের মার্চে করোনার আঘাতের পর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ তলানিতে নামে। অর্থনীতির ওপর আঘাত মোকাবিলায় সরকার ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে, তার বাইরে ঋণ প্রস্তাব ছিল না বললেই চলে।

এই প্রণোদণার পরেও গত জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ শতাংশের মতো, অথচ লক্ষ্য ছিল ১৪.৮ শতাংশ। সবচেয়ে কম ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ ঋণ প্রবাহ রেকর্ড হয় মে মাসে। বিনিয়োগের এমন খরা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কখনও হয়নি।

চলতি অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগের বছরের মতোই ঋণে ১৪.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরেছে।

এরই মধ্যে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা কাটিয়ে উদ্যোক্তারাও উৎপাদন শুরু করার বা নতুন কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করেছেন। জুলাই ও আগস্ট মাসে মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি বেড়েছে প্রায় ১১ শতাংশ। আর নতুন এলসি খোলা বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ।

তবে ভাইরাসের প্রকোপ আরো কমে আসায় ঋণ প্রবাহ আরও বেড়েছে। জুলাই ও আগস্টে যা ছিল যথাক্রমে ৮.৩৮ ও ৮.৪২ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে সেটা আরও বেড়ে হয় ৮.৭৭ শতাংশ।

কত টাকা ঋণ বিতরণ

২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক ব্যবস্থায় ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। মার্চ শেষে সেটা বেড়ে হয় ১১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা। কিন্তু সেপ্টেম্বরে শেষে ঋণ বেড়ে ১২ লাখ ১০ হাজার ৭২২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ছয় মাসে ঋণ বেড়েছে ৩৩ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।

বেড়েছে কলমানি সুদ

বছরখানেক আগেও আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে (কলমানি মার্কেট) সুদহার ছিল দুই শতাংশের নিচে। টাকার চাহিদা কম থাকায় প্রতিটি ব্যাংকের হাতেই উদ্বৃত্ত অর্থ ছিল; কিন্তু আমানত প্রবাহ কমে যাওয়া, ঋণের চাহিদা বেশি হওয়ায় নগদ টাকার চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকা উত্তোলন করায় বাজারে নগদ টাকার প্রবাহে টান পড়েছে।

এক বছর আগেও যেখানে কলমানি মার্কেটের সুদহার ছিল ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। কলমানি মার্কেটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া ব্যাংকগুলো অনেকটাই এখন চাপে পড়ে গেছে।

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে নগদ টাকার সংকট পরিস্থিতিতে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডের ঋণের সুদহারও বেড়ে গেছে। গত জুনে সরকারের ১০ বছর মেয়াদি বন্ডে সুদের হার ছিল গড়ে ৫.৬৫ শতাংশ। বর্তমানে তা ৭.৪৪ শতাংশে উঠেছে।

সংকটের সময় এক ব্যাংক অন্য ব্যাংক থেকে, আবার ব্যাংক থেকে নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িকভাবে টাকা ধার নেয়। সাধারণত এক রাতের জন্য এই ধার নেয়া হয়। এই ধার দেয়া-নেয়া কার্যক্রম যে ব্যবস্থায় সম্পন্ন হয় তা আন্তব্যাংক কলমানি বাজার নামে পরিচিত।

কমছে অতিরিক্ত তারল্য

বিনিয়োগে গতি ফিরতে শুরু করার পাশাপাশি সেপ্টেম্বরে ব্যাংকের অতিরিক্ত তারল্য কমেছে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত বা অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১৯ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা।

জুনে অতিরিক্ত এ তারল্যের পরিমাণ ২ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

অলস তারল্যের চাপ কমাতে গত আগস্টে উদ্যোগী হয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

এজন্য মাসব্যাপী ৭, ১৪ ও ৩০ দিন মেয়াদি বিলের নিলাম কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ওই নিলামের মাধ্যমে মুদ্রাবাজার থেকে অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা তুলে নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

নিয়মানুযায়ী, দেশের ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে নগদ জমা (সিআরআর) ও বিধিবদ্ধ জমা (এসএলআর) হিসেবে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়। এর মধ্যে বর্তমানে নগদে রাখতে হয় সাড়ে ৪ শতাংশ, যা সিআরআর হিসেবে বিবেচিত। বিভিন্ন বিল ও বন্ডের বিপরীতে বিধিবদ্ধ তারল্য বা এসএলআর রাখতে হচ্ছে ১৩ শতাংশ।

এই নিয়মে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর রাখার প্রয়োজন ছিল দুই লাখ ২৫ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা, কিন্তু ব্যাংকিং খাতে মোট তারল্য ছিল ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ অতিরিক্ত তারল্য সে সময় দাঁড়ায় দুই লাখ ১৯ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা।

তবে অতিরিক্ত তারল্যের সব অর্থই অলস নয়। অতিরিক্ত তারল্যের মধ্যে সিআরআরে থাকা অলস অংশ বাদে বাকি অর্থ ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ হিসেবে থাকে। এ টাকা সরকারকে ঋণ হিসেবে দেয়া হয়। এটা বাদ দিলে সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকিং খাতে অলস টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা।

ব্যাংকে আর্থিক হিসাবগুলো প্রস্তুত হয় তিন মাস অন্তত। ডিসেম্বর শেষে আবার হিসাব পাওয়া যাবে কার হাতে কত উদ্বৃত্ত টাকা আছে।

 

 





 

অর্থ-বাণিজ্য

বাংলাদেশে দেড় বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা সৌদি কোম্পানির

বিপুল বিদেশি বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত বাংলাদেশ

ইউরোপে নতুন কোভিড নিষেধাজ্ঞা, অর্ডার কমার শঙ্কায় পোশাক রপ্তানিকারকরা

প্রতারিত ক্রেতারা হাজার কোটি টাকার প্লট ও ফ্ল্যাট কিনে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে

ওমিক্রন উদ্বেগে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সম্মেলন স্থগিত

সবজির দাম কমেছে, বেড়েছে আলুর

জ্বালানি তেলের দাম ১৫ টাকা বাড়ানো ঠিক হয়নি: এফবিসিসিআই

ঢাকায় ২৮ ও ২৯ নভেম্বর বিনিয়োগ সম্মেলন

সিঙ্গাপুর, জাপান ও কানাডার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে

থাইল্যান্ডে বাংলাদেশী পণ্যের প্রচার করবে থাই দূতাবাস: রাষ্ট্রদূত

অর্থ-বাণিজ্য বিভাগের আরো খবর


1585646778.gif 1585646793.jpg 1585646805.gif

1615174445.gif

1629015305.png




Copyright © 2017-2021   |   Voice Asian - Asian Based News Portal
Contact: voiceasianinfo@gmail.com

   
StatCOUNTER