| ঢাকা, বাংলাদেশ | শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১ |
1618332889.jpg 1620928344.jpg

বিভাগ : জাতীয় তারিখ : ০৩-০৫-২০২১

লকডাউনে পরিবহন খাতে ‘উল্টো নীতি’


  ভয়েস এশিয়ান ডেস্ক


ভয়েস এশিয়ান, ০৩ মে, ২০২১।। গুলিস্তান থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত স্বাভাবিক সময়ে রিকশাভাড়া নেয়া হয় ৮০ থেকে ১০০ টাকা। তবে এখন ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় এ পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে বেসরকারি এক প্রতিষ্ঠানের কর্মী তালেব রহমানকে। একই অবস্থা গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার দিয়ে চলাচলকারী সিএনজি অটোরিকশার ক্ষেত্রে। আগে জনপ্রতি ৩০ টাকা হিসেবে পাঁচজন করে যাত্রী পরিবহন করা হতো অটোরিকশায়। কিন্তু এখন মাথাপিছু ভাড়া গুনতে হয় ১০০ টাকা করে। অথচ ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকরা কোনো ধরনের যানজট ছাড়াই চলাচল করছে সড়কে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চলছে দ্বিতীয় দফার ‘চলাচল বিধিনিষেধ’। লকডাউনের আদলে এই বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে না। নামে চলাচল বিধিনিষেধ হলেও প্রকৃতপক্ষে উল্টো নীতি দেখা যাচ্ছে। একমাত্র গণপরিবহন ছাড়াই সবই খোলা। সড়কে ব্যক্তিগত গাড়িসহ সব ধরনের গাড়ি চলছে। শপিং মল ও বিপণিবিতান খোলা। এতে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ধনীরা সড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আর নিম্নবিত্তের ভরসা পায়ে হাঁটা। তবে অস্বাভাবিক গরম ও রোজার কারণে তাতে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে পথিকদের।

এদিকে বিধিনিষেধ শুরুর প্রথম অবস্থায় পুলিশ কড়াকড়িভাবে চলাচল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। মুভমেন্ট পাসও সংগ্রহ করতে হয় সে সময়। তবে কিছু বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় তা শিথিল করা হয়। আর বিধিনিষেধের মধ্যে প্রায়ই কলকারখানা, পোশাক কারখানা, ছোট-বড় লাখ লাখ প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। এতে শ্রমজীবীদের কষ্টের সীমা নেই।

সমাজের মধ্যবিত্তদের কোনো নিজস্ব পরিবহন নেই। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় তাদের ছুটতে হচ্ছে রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও পিকআপে চড়ে। তবে এজন্য তাদের কয়েকগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো তোয়াক্কা নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে করোনা প্রতিরোধে লকডাউন নীতি কি আদৌ কোনো কাজে আসছে? নাগরিকরা কি মানছেন সামাজিক দূরত্বের নীতি? লকডাউন কার্যকর না হওয়ার পরিণতিই বা কী হতে পারে? এসব বিষয় বিবেচনা করে লকডাউন দেয়া উচিত ছিল।

আর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি মাসে করোনার সংক্রমণ চরমে পৌঁছাতে পারে। ফলে চলাচলে বিধিনিষেধ বা লকডাউনের উল্টো নীতি থেকে বের হতে হবে। নিতে হবে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, যাতে মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করা যায়। অপরদিকে গণপরিবহন খুলে দিয়ে তা যথাযথ তদারকি করা হলে ঝুঁকি কমতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্রমতে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত ২৯ মার্চ সরকারের পক্ষ থেকে ১৮ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়। সে সময় গণপরিবহন বন্ধ রাখলেও বেসরকারি শিল্প-প্রতিষ্ঠান ও কল-কারখানা সব খোলা ছিল। তবে জনগণের দাবির মুখে পরে পরিবহন চালু হয়। যদিও করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ মোকাবিলায় ৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে এক সপ্তাহের জন্যে দ্বিতীয় দফায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এতে গণপরিবহন বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও বিমান এবং শপিং মল ও বিপণিবিতান বন্ধ করাসহ ১১টি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পরবর্তীকালে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে শপিং মল ও দোকানপাট খুলে দেয়া হয় ও বিমান চালু করা হয়। তবে এখনও বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন।

এদিকে সংক্রমণ কমানোর জন্য দ্বিতীয় দফা আরোপিত লকডাউনের মেয়াদ ৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়। বিধিনিষেধের মধ্যে সব সরকারি-বেসরকারি অফিস কেবল জরুরি প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে খোলা রাখার কথা বলা হয়। তবে প্রয়োজনীয় জনবলকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আনা-নেয়ার কথা বলা হয়। খোলা রাখা হয় ব্যাংক ও কারখানা। বিধিনিষেধে নিজস্ব পরিবহনের কথা বলা হলেও তা গুড়েবালি। শতকরা ৯৯ শতাংশ অফিস ও কারখানার নিজস্ব পরিবহন নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আনা-নেয়ার জন্য নেই পরিবহন ব্যবস্থা। ফলে কারখানা, ব্যাংক ও বিভিন্ন অফিসে কর্মরতদের অফিসে পৌঁছানোর জন্য বিকল্প পথ খুঁজতে হয়েছে।

অপরদিকে নিম্ন আয়ের মানুষকে কাজের খোঁজে বের হতে হচ্ছে। কিন্তু গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কাজে যেতে তাদেরও একইভাবে ঝুঁকি আর যাতায়াতে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। তারা বলছেন, কঠোর বিধিনিষেধ বা লকডাউন কার্যকর করতে হলে সব বন্ধ করে দিতে হবে। তা না হলে সব ধরনের পরিবহন ব্যবস্থায় কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। নিম্ন-আয়ের মানুষ, অফিসমুখী আর কারখানায় কর্মরতদের ভোগান্তিতে ফেলতেই এই লকডাউন দেয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তাদের প্রশ্ন রয়েছে। তবে লকডাউনের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। যদিও তাতে কোনো নিয়ন্ত্রণ বা তদারকি দৃশ্যমান ছিল না। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের কষ্ট আরও বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যাংক, বিভিন্ন অফিস ও কারখানায় কর্মরতরা ছুটছেন কখনও রিকশা, অটোরিকশা, সিএনজি, মাইক্রো ও পিকআপে গাদাগাদি করে। এতে তাদের একদিকে যাতায়াত খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে, অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো সুযোগ নেই। তবে রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি চলছে দেদার। তাতে নিয়ন্ত্রণ নেই বললেই চলে। গণপরিবহন থাকলে তাতে নিয়ম মেনে যাতায়াত করলে করোনার ঝুঁকি হয়তো কমত। কিন্তু গণপরিবহন বন্ধ থাকায় এভাবে চলার কারণে ঝুঁকি আরও কয়েকগুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন অনেকেই। গণপরিবহন বন্ধ করে ব্যক্তিগত গাড়ির অবাধ বিচরণ লকডাউনের উল্টো নীতি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

অপরদিকে করোনার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি শপিং মল ও বিপণিবিতানে। মাস্ক পরা, হাত ধোয়া, স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, তাপমাত্রা মাপাসহ কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানার শর্তে শপিং মল ও বিপণিবিতান খুলে দেয় সরকার। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না। শপিং মল, বিপণিবিতানে যেতে মুভমেন্ট পাস নেয়ার কথা বলা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। এমনকি দৃশ্যমান কোনো তদারকিও নেই। বিক্রেতারা স্বাস্থ্যবিধি মানতে ক্রেতাদের উৎসাহিত করছেন না। ফলে করোনাভাইরাসের চরম ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। যদিও লাখ লাখ ব্যবসায়ী আর কর্মচারীদের কথা বিবেচনা করে শপিং মল, বিপণিবিতান খুলে দেয় সরকার।

এ বিষয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘সরকার বিশেষ বিবেচনায় গণপরিবহন চালু করতে পারে। সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সেনাবাহিনীর সহায়তায় গণপরিবহন চালু করতে পারে। লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও সব ধরনের পরিবহনের চাপ বেড়েছে, মানুষের যাতায়াত বেড়েছে। এতে সংক্রমণ বাড়ছে। করোনা একটি জাতীয় দুর্যোগ বিবেচনা করে সহায়তা দিলে মানুষের যাতায়াত কমে যেত। ঈদের আগে গণপরিবহন চালু করলে ভারতের মতো ভয়াবহ অবস্থা হবে।’

এ বিষয়ে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজির হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এরই মধ্যে বলেছেন, সারাদেশে সীমিত পরিসরে লকডাউনে সমস্যার সমাধান হবে না। করোনা প্রতিরোধে যে এলাকায় সংক্রমণ বাড়বে, সে এলাকা লকডাউন করা দরকার। এলাকাভিত্তিক করা হলে সুফল আসবে। কারণ সব এলাকায় তো সংক্রমণ নেই।’

তিনি বলেন, ‘ঝুঁকির মধ্যেও বেশিরভাগ লোকজন জীবিকার তাগিদে বের হচ্ছে। সরকার যদি আগের লকডাউনের মতো তাদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ, প্রণোদনা বা সহযোগিতা দিত, তাহলে লোকজন কম বের হতো।’





 

জাতীয়

রাত পোহালেই ঈদ, খোঁজ নেয়নি কোনো সন্তান!

করোনাকালীন ঈদে ১২ নির্দেশনা

৬০ লাখের বেশি মানুষ ঈদে ঢাকা ছেড়েছে

করোনাকালে এলো খুশির ঈদ

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদুল ফিতর উদযাপনে রাষ্ট্রপতির আহ্বান

চাঁদ দেখা গেছে, শুক্রবার ঈদ

সবাইকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

ঈদে গণজমায়েত এড়িয়ে চলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

করোনায় দেশে ৩১ মৃত্যু, শনাক্ত ১২৯০

১৬ মে'র পর আরেক দফা লকডাউন: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় বিভাগের আরো খবর


1585646778.gif 1585646793.jpg 1585646805.gif

1615174445.gif

1585305234.jpg




Copyright © 2017-2021   |   Voice Asian - Asian Based News Portal
Contact: voiceasianinfo@gmail.com