| ঢাকা, বাংলাদেশ | শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১ |
1618332889.jpg 1618248388.jpg

বিভাগ : অর্থ-বাণিজ্য তারিখ : ০৫-০৪-২০২১

উৎসবের ব্যবসা ফের পণ্ড হওয়ার শঙ্কা


  ভয়েস এশিয়ান ডেস্ক


ভয়েস এশিয়ান, ০৫ এপ্রিল, ২০২১।। ছোট থেকে বড়- সব ব্যবসায় বড় ধরনের ধাক্কা দেয় ঘাতক ভাইরাস করোনা। ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণ ঠেকাতে গত বছর দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখা হয় সারাদেশের মার্কেট-দোকানপাট। অথচ ব্যবসায়ীদের সর্বনাশের ওই সময়টিই ছিল ব্যবসার জন্য পৌষ মাস। পহেলা বৈশাখ থেকে শুরু করে দুই ঈদ কিংবা দুর্গাপূজা- কোনো উৎসবেই হয়নি বেচাকেনা। সেই ক্ষতি কাটাতে এখনো হিমশিম খাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তাই এবারের উৎসব ঘিরেই ছিল তাদের যত আশা। প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছেন আগাম। কিন্তু এর মধ্যেই করোনার দ্বিতীয় আঘাত। সারাদেশেই হু হু করে বাড়ছে কোভিড রোগী, সঙ্গে মৃত্যুও। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের ঘোষিত লকডাউনে ব্যবসায়ীদের কপালে স্পষ্ট দুর্ভাগ্যের রেখা। আসন্ন পহেলা বৈশাখ ও ঈদ মৌসুমের ব্যবসাও যে প- হতে বসেছে!

দেশে করোনা শনাক্তের রেকর্ড ভেঙে রেকর্ড গড়ছে প্রতিদিনই। গত ১৫ দিনে উদ্বেগজনক হারে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় আজ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। গতকাল রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ওই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে এর প্রতিবাদে বিকালেই রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার ব্যবসায়ী ও কর্মচারী। রাজধানীর

নিউমার্কেট, নয়াপল্টন, মৌচাক মার্কেট, ইসলামপুরসহ বেশ কিছু এলাকার সড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ দেখান। লকডাউনের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলা রাখার দাবি জানান তারা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভটি হয়েছে নিউমার্কেট এলাকায়। চন্দ্রিমা সুপারমার্কেট, ঢাকা নিউ সুপারমার্কেট, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটসহ ওই এলাকার বিভিন্ন মার্কেট ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা এতে অংশ নেন। এ সময় তারা সেøাগান দেন- ?‘লকডাউন মানি না, মার্কেট খোলা চাই’। মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোর ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছর সবগুলো উৎসবের ব্যবসা হারিয়েছেন তারা। এ বছর পহেলা বৈশাখ ও ঈদ মৌসুম ঘিরে যখন নতুন করে আশার বীজ বুনেছিলেন, ঠিক তখনই লকডাউন ঘোষণা করা হলো। এখন ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘জনস্বাস্থ্যের কল্যাণে এবং ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমরা সেটাকে অবশ্যই স্বাগত জানাই। তবে লকডাউনের খবরে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগামী দিনগুলোয় কী হবে, লকডাউন আবারও দীর্ঘায়িত হবে কিনা- এই ভেবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি আমরা ব্যবসায়ীরা। কারণ মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ থাকলে পুরোপুরি আয়শূন্য হয়ে পড়তে হবে ব্যবসায়ীদের। হাতে এখন পুঁজিও নেই যে তা দিয়ে সংসার চালাব। ব্যবসাটাকে টিকিয়ে রাখতে উল্টো ঋণ করতে হয়েছে অনেককে।’

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যবসায়ী জানান, করোনার প্রথম ধাক্কা এখনো তারা সামলে উঠতে পারেননি। সেই সঙ্গে ঋণের বোঝা মাথায়। পরিবার নিয়ে অভাবেই কাটছে তাদের দিন। এর মধ্যে আবার লকডাউন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ পরিস্থিতি তৈরি করল। চন্দ্রিমা মার্কেটের কাপড়ের ব্যবসায়ী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘গত বছরের ঋণ এখনো পরিশোধ করতে পারিনি। এর মধ্যে নতুন করে ঋণ নিয়ে পহেলা বৈশাখের জিনিসপত্র তুলেছি দোকানে। এখন মার্কেট বন্ধ থাকলে পুরাই ধরা। না খেয়ে মরতে হবে আমাদের। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।’

একই অবস্থা দোকান কর্মচারীদেরও। নিউ সুপারমার্কেটে দৈনিক মজুরিতে কাজ করা একজন কর্মচারী মো. শিপন আহমেদ বলেন, ‘লকডাউনের কারণে মালিক বলে দিয়েছেন- কাল থেকে আর আসার দরকার নেই। দোকান বন্ধ থাকলে আমারও ইনকাম বন্ধ থাকে। গরিব মানুষ আমি, কাজ না থাকলে পরিবার নিয়ে কীভাবে বাঁচব? তাই মার্কেট খোলা রাখার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছি।’

লকডাউনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে চন্দ্রিমা সুপারমার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মনজুর আহমেদ মনজু আমাদের সময়কে বলেন, ‘বইমেলা খোলা থাকতে পারলে মার্কেট কেন পুরোপুরি বন্ধ থাকবে? আর মার্কেট বন্ধ থাকলে ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের সংসার চলবে কীভাবে? লকডাউনে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে, কাউকে আয়শূন্য করে দেওয়া হবে, এটা তো হতে পারে না। ব্যবসায়ীরা নিরুপায়। সরকারের কাছে আমাদের একটাই আবেদন, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সব স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে মার্কেট খোলা রাখতে দেওয়া হোক। আমরা মার্কেট কর্তৃপক্ষগুলো স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতের আপ্রাণ চেষ্টা করব।’ নিউ সুপারমার্কেট (দক্ষিণ) বণিক সমিতির সভাপতি শহীদুল্লাহ শহীদ বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ ও রমজান উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা বিপুল টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এখন মার্কেট পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে ব্যবসায়ীদের বড় লোকসান হয়ে যাবে। আমাদের একটাই দাবি, বেলা ১১ কিংবা ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হোক।’

এদিকে গত বছর করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবসা অচল থাকায় অর্ধকোটিরও বেশি ক্ষুদ্র ও অণু ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা হারিয়ে বেকার হয়েছেন বলে দাবি দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিনের। তিনি বলেন, ‘গতবারের সাধারণ ছুটি শেষে অণু ব্যবসায়ীরা আবারও ব্যবসায় ফিরতে শুরু করেছেন। তা ছাড়া মাঝারি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও গত বছরের করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেননি এখনো। এর মধ্যে নতুন করে লকডাউন ব্যবসায়ীদের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। এবারও যদি দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, তা হলে পথে বসে যেতে হবে। তাই বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘করোনার এমন নাজুক পরিস্থিতির মাঝে রাস্তায় বিক্ষোভ-অবরোধ আমাদের কারোরই কাম্য নয়। কিন্তু ব্যবসায়ীদের কিছু করার নেই। গত বছরের বিপুল লোকসানে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে সবার। আমরা ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছি যে, মার্কেট ব্যবসায়ীদের দিকটাও বিবেচনা করা হোক। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে দিনের একটা অংশ দোকানপাট-মার্কেট খোলা থাকলে ব্যবসায়ীরা অন্তত তাদের পরিবার নিয়ে খেয়েপরে বাঁচতে পারবেন।’





 

অর্থ-বাণিজ্য

ইসলামপুরের কাপড়ের বাজার: ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন শেষ, মাথায় ঋণের বোঝা

সবজির দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক

ব্যাংকে লোক নেই

বিশেষ প্রয়োজনে খোলা থাকবে ব্যাংক

ব্যাংক লেনদেনের সময় বেড়েছে

গার্মেন্টস মালিকরা আরও ১০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা চায়

রোজার আগে ফের বাড়ল নিত্যপণ্যের দাম

দেশে স্বর্ণের মজুদ দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত সোনা ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দাবি

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনা মাশুলে লেনদেন

অর্থ-বাণিজ্য বিভাগের আরো খবর


1585646778.gif 1585646793.jpg 1585646805.gif

1615174445.gif

1585305234.jpg




Copyright © 2017-2021   |   Voice Asian - Asian Based News Portal
Contact: voiceasianinfo@gmail.com